দেশের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ-জবি ছাত্রদলের আহবায়ক হিমেল
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কমিটিতে আমরা অনেকেই পদ প্রত্যাশী। তবে ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান ছাত্রদলের জন্য যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা কর্মীরা সেটাই মেনে নিয়ে সংগঠনের ঐক্য এবং দেশের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ ।
ছাত্রদলের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক ঢাকার রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামের পরীক্ষিত ছাত্রনেতা মেহেদী হাসান হিমেল জানান,যেহেতু কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে তাই সংগঠনকে গতিশীল করতে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের অপেক্ষায় আছি আমরা।
এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নতুন কমিটি গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের সন্ধানে রয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নিয়ে জোর তৎপরতা চলছে বিএনপিতে। নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে থাকা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মূল দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তদবিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন। একইসঙ্গে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি এবার কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচনের সম্ভাবনা থাকায় সারা দেশে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন পদপ্রত্যাশীরা। দলের শীর্ষ দুই পদের জন্য এরইমধ্যে ডজনের বেশি নেতার নাম আলোচনায় এসেছে।
গত ২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত ২ বছর মেয়াদী কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি মাসের ১ মার্চ। দলীয় সূত্রে জানা যায়, যে কোনো সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে ঘোষণা দিতে পারেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থেকে দলটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের দেখাশোনা করলেও এবারের চিত্র ভিন্ন।
ছাত্রদলকে আরও গতিশীল করতে নেতৃত্ব বাছাইয়ে সরাসরি তদারকি করছেন তিনি। ছাত্রদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক নেতাদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীবান্ধব, ত্যাগী, সৎ ও গ্রহণযোগ্য ক্লিন ইমেজের নেতারা এসব আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছেন। একইসঙ্গে পারিবারিক ও এলাকার অবস্থানও গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। ছাত্রদলের শীর্ষ দুই পদের জন্য এরইমধ্যে এক ডজনের বেশি নেতার নাম দলের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন তা নির্ভর করছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। তবে বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত এবং গ্রহণযোগ্য নেতাদের হাতেই সংগঠনের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হোক, এমনটাই প্রত্যাশা নেতাদের।
নতুন নেতৃত্বে আলোচনায় এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসারও জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এরমধ্যে আলোচনায় আছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদি হাসান হিমেল। ফ্যাসিবাদ বিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে এক অকুতোভয় বীর সৈনিক হিসেবে বিশেষ অবদান ও সাংগঠনিক দক্ষতায় এগিয়ে থাকায় তার নাম জোর আলোচনায় রয়েছে।শত নিপীড়ন নির্যাতনেও তিনি ছেড়ে যান নি রাজপথ।স্বৈরাচার হাসিনার খুনি বাহিনীর হাতে বার বার নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন মেহেদী হাসান হিমেল।ফিরে এসেছেন মৃত্যুর খুব কাছ থেকে।রিমান্ডে নিয়ে অকথ্য নির্যাতনের পর ডান্ডাবেরি পড়িয়ে তাকে আদালতে হাজির করা হতো।তার বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য মামলা।দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে রাজপথে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন হিমেল।ঢাকার রাজপথে অগ্রভাগে সক্রিয় ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনেও।তার নেতৃত্বে স্বৈরাচার হাসিনা বিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তোলে ছাত্রজনতা।তার বাড়ি বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর উপজেলা নিকলীতে।তার পিতা ছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম ডা:আহামদ আলী মিন্টু।যিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাকালীন সময় থেকেই নিকলীর সাধারণ মানুষের কাছে মিন্টু ডাক্তার হিসেবেই সুনাম সুখ্যাতি অর্জন করে মানবিক ডাক্তার হিসেবে পরিগণিত হয়।
তাই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে জোর আলোচনায় আছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল। পুরান ঢাকা কেন্দ্রিক বিভিন্ন আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা পরিচিত এই মুখও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদে থাকতে পারেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
ত্যাগী ও লড়াকু নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি:
মেহেদী হাসান হিমেল কেবল পদধারী নেতা নন, বরং রাজপথের একজন লড়াকু সৈনিক হিসেবে নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত। বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলনে তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান এবং তার পরবর্তী সময়ে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত রাখতে তিনি সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আন্দোলন করতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণ এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়া এই ছাত্রনেতা প্রতিকূল সময়েও মাঠ ছেড়ে যাননি।
সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনপ্রিয়তা:
মেহেদী হাসান হিমেল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়কের মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পালনে তার সাংগঠনিক দক্ষতা দেখিয়েছেন। সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং তাদের সুখে-দুখে পাশে থাকার কারণে ছাত্রদলের বিশাল একটি অংশ তাকে আগামী দিনের কান্ডারি হিসেবে দেখতে চায়। কর্মীদের মতে,মেহেদী হাসান হিমেল একজন সুশৃঙ্খল নেতা, যিনি চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে কঠোর।
ক্লিন ইমেজ ও আগামীর প্রত্যাশা:
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যখন ছাত্রদলে ‘ক্লিন ইমেজ’ এবং ‘পরিক্ষিত’ নেতাদের গুরুত্ব দিচ্ছেন, তখন মেহেদী হাসান হিমেল যোগ্যতার মাপকাঠিতে অনেকটাই এগিয়ে। তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার চাঁদাবাজি বা বিশৃঙ্খলার অভিযোগ নেই, যা বর্তমান সময়ে সংগঠনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে অত্যন্ত জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাকে নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন সাধারণ কর্মীরা। নেতাকর্মীদের দাবি,মেহেদী হাসান হিমেলের মত অকুতোভয় বীর ত্যাগী ও সাহসী ছাত্রনেতাকে শীর্ষ নেতৃত্বে আনা হলে ছাত্রদল শুধু শক্তিশালীই হবে না, বরং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।