বেফাকে সারাদেশে তৃতীয় স্থান অর্জন—হাফেজ জুবাইদকে নিয়ে গর্বিত কিশোরগঞ্জ
জসিম উদ্দিন,সিনিয়র রিপোর্টার,বাজিতপুর:
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পুরান গাঁও কান্দা পাড়ার মেধাবী শিক্ষার্থী মো. জুবাইদ (১২) দেশব্যাপী মূল্যায়ন পরীক্ষায় ২০০ নাম্বারে মধ্যে ১৯৭ পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করে এলাকাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তার এ অসাধারণ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষকমণ্ডলী এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।
মো. জুবাইদের পিতা মৃত মো. আনিস মিয়া। তিনি ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ দেখিয়ে আসছিলেন। জুবাইদ পৃথিবীতে আসার আগেই বাবা মো.আনিস মিয়া প্রয়াত হন। এতিম হাফেজ জুবাইদ বর্তমানে তিনি পুরান গাঁওয়ের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান তালিমুল কুরআন নুরানি হাফিজিয়া মাদ্রাসা-এর গরবিত ছাত্র। তার এ সাফল্যের পেছনে অক্লান্ত পরিশ্রম ও আন্তরিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত শিক্ষক হাফেজ মাওলানা আল আমিন এবং হাফেজ জাকির হোসেন।
হাফেজ জুবাইদ তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, তিনি ভবিষ্যতে একজন বড় আলেম হয়ে ইসলামের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত করতে চান। তার এই মহৎ লক্ষ্য ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর মাঝে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
ওস্তাদ হাফেজ মাওলানা আলামিন জানান জুবাইদ খুবই মেধাবী ও আমল আখলা মান সম্পন্ন, আমি তার উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করি।
এদিকে, স্থানীয় ইসলামের খাদেম ও সমাজসেবক এবং একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ইউনিক মেডিকেল এর কর্ণধার ডা. হাবিবুর রহমান জুবাইদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এগিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, “হাফেজ জুবাইদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা আসে, তাহলে আমি এবং আমার সন্তানরা তার সম্পূর্ণ খরচ বহনের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। আল্লাহ আমাদেরকে এই নেক কাজে অংশগ্রহণের তৌফিক দান করুন।”
স্থানীয়দের মতে, জুবাইদের এই সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো বাজিতপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার জন্য গৌরবের বিষয়। তারা আশা করেন, যথাযথ সহযোগিতা পেলে জুবাইদ ভবিষ্যতে দেশের একজন বিশিষ্ট আলেম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এবং ইসলামের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।