ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশসেরা পদক পাওয়া প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান বদলি
আব্দুল আলীম সিনিয়র রিপোর্টার জয়পুরহাট:
ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দেশসেরা পদক পাওয়া জয়পুরহাট সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসানকে বদলি করে ফরিদপুর জেলার মধুখালি উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২) মোসাম্মদ রোখসামা হায়দার এর স্বাক্ষরিত চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সাংবাদিকদের বদলির বিষয় নিশ্চিত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেছের আলী।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আক্কেলপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা থাকাকালীন ওই সরকারের সাবেক হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের অত্যন্ত ঘনিষ্ট ও আস্থাভাজন ছিলেন শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান। সেসময় তিনি ওই হুইপকে ম্যানেজ করে ২০২৪ সালে লবিং করে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার ও সনদ নেন। এরপর থেকে বেপোরোয়া ও আত্নঅহংকারী কর্মকর্তা হন তিনি। জুলাই আন্দোলনের পর সুযোগ বুঝে জনরোষানল থেকে বাঁচতে আক্কেলপুর থেকে সদর উপজেলায় বদলি হন। যোগদানের পর নানা অনিয়ম, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন, ভুয়া টিএ বিল উত্তোলন, ক্ষমতার অপব্যবহার, শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, সঠিক সময়ে অফিসে না আসা, স্লিপ নীতিবহিভূর্তভাবে ইচ্ছে মতো অর্থ ব্যয় করার জন্য প্রধান শিক্ষকদের চাপ দেন, শিক্ষকদের নায্য পাওয়া সঠিক সময়ে না দেওয়া, ২০২৩ সালের পরীক্ষা নীতিমালা বহির্ভূতভাবে প্রশ্নপত্রের জন্য অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ স্বেচ্ছাচারিতা করেন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান। এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালিগাজাজ করে বিভাগীয় মামলার হুমকি দেওয়া হয়। এতে শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে গত বছরের ৩০ আগস্টে দৈনিক শিক্ষাডটকমের প্রতিবেদন প্রচার হয়। দীর্ঘ ৭ মাস ৩দিন পর প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান বদলি হয় ফরিদপুরের মধুখালি উপজেলায় বলে জানাগেছে।