নেতৃত্বহীন কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের দাবি তৃণমূল নেতাকর্মীদের
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটি নেই। এতে সংগঠনের কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে এক স্থবিরতা। একাধিক নেতাকর্মীর মতে, দল ক্ষমতায় গেলেও ছাত্রদলের কমিটি না থাকায় নেতৃত্ব গড়ে উঠছে না। ফলে অনেক টাই স্থবির হয়ে পড়েছে ছাত্রদলের কর্মকাণ্ড।
জানা গেছে, প্রায় সাত বছর পর কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আশার সঞ্চার হলেও তা স্থায়ী হয়নি। পরে ঘোষিত কমিটি স্থগিত করা হয়। জানা যায়, গত বছরের ১৫ মে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যের একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করে। এই কমিটিতে শরীফুল ইসলাম নিশাদকে সভাপতি ও রেদুয়ান রহমান ওয়াকিউরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এ ছাড়া আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সিনিয়র সহসভাপতি, রাফিউল ইসলাম নওসাদকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জাকির হোসেন রাজিবকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। পরে এই কমিটি ঘোষণার মাত্র ২০ দিন পর তা স্থগিত করা হয়। হঠাৎ কেন্দ্রীয় কমিটির এমন সিদ্ধান্তে নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর দল ক্ষমতাসীন হওয়ার পরপরই তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলে আসছেন, দীর্ঘদিন ধরে জেলায় ছাত্রদলের কার্যকর নেতৃত্ব না থাকায় সংগঠনের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অংশ নেওয়াটা অনেক টাই কমে গেছে।এ কারণে রাজনৈতিক কর্মসূচি সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
বিভিন্ন পদ প্রত্যাশীরা আলাদা করে একক ভাবে কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে।
জেলা ছাত্রদলের তৃণমূলের কর্মী আশরাফুল ইসলাম পিয়াদ বলেন, এমন নেতাই আমরা চাই, যারা তৃণমূলের কর্মীদের কষ্ট বুঝবে। যারা বিগত সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, তাদেরকে যেন মূল্যায়ন করা হয়- এমন প্রত্যাশাই আমাদের।
আরেক কর্মী অনিক হাসান জান্নাতুল বলেন, কমিটি না থাকলে সংগঠন অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। নেতৃত্ব সৃষ্টি হয় না। সংগঠনও এগোতে পারে না। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দিকনির্দেশনাহীন অবস্থায় আছি। দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি হলে কর্মী-সমর্থকরা মাঠে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
আরেক কর্মী আহসানুল হক তারেক বলেন, কমিটি ঘোষণায় অনেক বেশি আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তা স্থগিত হওয়ায় হতাশা গ্রাস করে। এখন আবার নতুন গঠনের প্রত্যাশায় বুকে সাহস পাচ্ছি। আশা করছি, দ্রুতই ত্যাগীদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।
আসন্ন কমিটির জেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী (স্থগিত কমিটির সভাপতি) শরীফুল ইসলাম নিশাদ বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলকে সক্রিয় করতে হলে শক্তিশালী ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব প্রয়োজন। আমার চাওয়া হলো যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হোক। তিনি দাবি করেন, দলের জন্য তার দীর্ঘ ত্যাগ রয়েছে। তা ছাড়া নেতাকর্মীদের মধ্যে তার ক্লিন ইমেজও রয়েছে। আশা করি দল আমাকে আবারও মূল্যায়ন করবে। আগের কমিটি স্থগিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, কী কারণে আগের কমিটি স্থগিত করা হয়েছিল, সেটা কেন্দ্রই ভালো বলতে পারবে। আমার কিছু জানা নেই।
আসন্ন কমিটির জেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী (স্থগিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ) রেদুয়ান রহমান ওয়াকিউর বলেন,আমাদের প্রত্যাশা, দ্রুত নেতৃত্ব সংকটের অবসান ঘটিয়ে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য কমিটি কঠনে করবে কেন্দ্র। এতে করে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল আবারও সাংগঠনিকভাবে আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে এবং তৃণমূলে নতুন উদ্যম ফিরে আসবে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী স্থগিত কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বলেন, দীর্ঘদিন নেতৃত্ব না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমের তো প্রভাব পড়েছেই। নতুন কমিটি হলে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ হবে এবং সংগঠনের কার্যক্রমে গতি ফিরে আসবে। আমি আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি।
সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী ও স্থগিত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওসাদ বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাই, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হোক। সেই কমিটির মাধ্যমে জেলার সাংগঠনিক কাজ গতিশীল হবে। এখন ইউনিট কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নতুন কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ণ করা হবে সেই প্রত্যাশা করছি।
সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী স্থগিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাকির হোসেন রাজিব বলেন, গত ১৬ বছরে সব আন্দোলনে সক্রিয় থেকে কাজ করেছি। এখন দলের কাছে চাওয়া ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে। যারা পদ পত্যাশী সবাই ত্যাগী। দ্রুত কমিটি হয়ে গেলে ছাত্রদল আরও চাঙা হয়ে উঠবে। দল ক্ষমতায় থাকায় তৃণমূলের কর্মীদের প্রত্যাশাও বেশি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় আসায় সংগঠনের ভেতরে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করছেন, এই সুযোগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি ঘোষণা করবে। সেই কমিটিতে যোগ্যরাই মূল্যায়িত হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৪ জুন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের ৫৮ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছিল। এরপর দীর্ঘ সময় নতুন কমিটি না হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। সবশেষ কমিটি ঘোষণার পরেও তা স্থগিত হওয়ায় সেই সংকট আরও প্রকট হয়েছে।