কটিয়াদীতে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানী সংগ্রহে বাইকারদের উপচেপড়া ভিড় ও দীর্ঘ লাইন
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার গুঞ্জনে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড় ও দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকটের কারণে অনেক চালক কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না, যা সাধারণ ভোক্তাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল থেকেই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি কিনতে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক চালক পাম্পে ভিড় করায় মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হয়েছে, এতে বেড়েছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি।
শুক্রবার সকাল থেকেই উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়। পাম্পমুখী যানবাহনের চাপ আশপাশের সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং বহু যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের সারি সড়কের ওপর চলে আসায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। এমনকি জরুরি সেবার যানবাহনও আটকে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই পাম্পগুলোতে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এতে জ্বালানির জন্য হাহাকার তৈরি হয়েছে এবং ভোক্তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, হঠাৎ তৈরি হওয়া যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। অনেকেই জরুরি কাজেও বিলম্বের শিকার হয়েছেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, পাম্পে সংকট থাকলেও খোলা বাজারে তুলনামূলক সহজে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে, যা সিন্ডিকেটের কারসাজি হতে পারে। কোথাও কোথাও প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রির কথাও জানা গেছে, যা নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি।
তবে সংশ্লিষ্ট পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ নয়; বরং হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাপ তৈরি হয়েছে। একসঙ্গে বেশি গ্রাহক আসায় সেবা দিতে সময় লাগছে।
ইমরান সহ বাইক চালকদের অনেকে জানান, ভবিষ্যতে সংকট বাড়তে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই তারা অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করছেন।
এদিকে পৃথক লেন না থাকায় জরুরি রোগী বহনকারী গাড়িও যানজটে আটকে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ শুরু করলে ধীরে ধীরে যানজট কমে আসে।কটিয়াদি থানা পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণেই সাময়িক এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল এবং বর্তমানে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গুজব ও আতঙ্ক থেকে সৃষ্ট অতিরিক্ত চাহিদাই এই অস্থিরতার প্রধান কারণ। যদিও সরকার বলছে, দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালক মারুফ বলেন, “এক কিলোমিটার লম্বা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছি মাত্র দুই লিটার তেলের জন্য। এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরেও কোথাও তেল মিলছে না।”
এদিকে তীব্র ভিড়ের কারণে তেল বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও।
জ্বালানি সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা, যারা নিয়মিত মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। অনেকের মাঝপথে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় গাড়ি ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে কিছু অসাধু চক্র ২৫০ টাকা লিটার দরে পেট্রোল বিক্রি করছে। সাধারণ ভোক্তাদের দাবি, পাম্পের তেল বাইরে পাচার হয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত।
কটিয়াদী বাজারের তেল ব্যবসায়ী দেবাশীষ রায় পার্থ জানান, তেলের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খুবই কম। ৩ হাজার লিটার তেল আসার খবর পেয়ে গ্রাহকরা যেভাবে ভিড় করেছেন, তাতে স্বাভাবিক বিক্রি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। পুলিশি সহায়তা নিয়েও ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দৈনিক চাহিদার তুলনায় সরবরাহ পাওয়ার কিছুক্ষণ পরই মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। তারা দ্রুত তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।