কিশোরগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় ইউপি সদস্য ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা
ইমরান হোসেন, কিশোরগঞ্জ :
কিশোরগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় ইউপি সদস্যসহ তার পরিবারের চার জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের হাজী বাড়ির ফ্রান্স প্রবাসী নুরে আলম সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। এ বিষয় ভুক্তভোগী হিসেবে অভিযোগ করেছেন তারই আপন ভাতিজা খাইরুল ইসলাম।
জানা যায়, ২০০৯ সালে খাইরুল ইসলামকে ফ্রান্সে নেওয়ার কথা বলে নুরে আলম সিদ্দিক ভিসা বাবদ অগ্রিম ১ লাখ ৫ হাজার টাকা নেন। এর মধ্যে মো. রুকুন মিয়ার মাধ্যমে ৫৫ হাজার টাকা এবং মো. মোস্তুফার মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাকে বিদেশে নেওয়া হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নুরে আলম সিদ্দিকের কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে ২২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন খাইরুল ইসলাম। জমির বিবরণ অনুযায়ী, ভাস্করখিলা মৌজার দাগ নং সিএ ২৮৮ (হাল দাগ ১৬৪২) অনুযায়ী ১৩ শতাংশ এবং দাগ নং ৯৭৪ (সিএস, হাল দাগ ২০৪৬) অনুযায়ী ৮ শতাংশ জমি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু জমির দলিল বুঝে দিতে টালবাহানা করতে থাকেন অভিযুক্ত নুরে আলম সিদ্দিক।
এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে নুরে আলম সিদ্দিক উল্টো খাইরুল ইসলাম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। সালিশে সিদ্ধান্ত হয়, নুরে আলম সিদ্দিক খাইরুল ইসলামকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেবেন এবং ক্রয়কৃত জমির দলিল বুঝিয়ে দেবেন। পাশাপাশি তিনি নিজ খরচে দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলাও প্রত্যাহার করবেন বলে সম্মত হন। তবে সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত নুরে আলম সিদ্দিক টাকা ফেরত দেননি এবং মামলাও প্রত্যাহার করেননি।
এ বিষয়ে খাইরুল ইসলামের বড় চাচা আব্দুর রউফ বলেন, নুরে আলম সিদ্দিক আমার ভাই এবং খাইরুল আমার ভাতিজা। আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছি। সালিশে যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, উভয় পক্ষই তা মেনে নেয়। কিন্তু এখনো সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরে আলম সিদ্দিক তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মোস্তফার মাধ্যমে খাইরুলের কাছ থেকে যে টাকা নিয়েছি তা পরিশোধ করেছি আর রুকন যে খাইরুলের কাছ থেকে টাকা নিছে তা পরিশোধ করছে কিনা আমি জানি না। অন্যদিকে আমি বাড়ির বাউন্ডারি করতে গেলে খাইরুল ও তার পরিবারের লোকজন আমার কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা চাদা দাবি করছে। এ বিষয় প্রশাসনের নিকট আমি বিচার চাই।