“আল্লাহ জানে ডিজেল কোথায়”
সরদার রইচ উদ্দিন টিপু, প্রতিনিধি নড়াইল :
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এবছর ১০ হাজার ৩৩৭ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। তার মধ্যে ডিজেল চালিত স্যালো মেসিন রয়েছে ৫ হাজার ৩১২ টি। কিন্তু ডিজেল সংকটের কারনে এই স্যালো মেসিন মালিকেরা হতাশায় ভুগছেন।
লোহাগড়া ফিলিং ষ্টেশনে এক কৃষক তপ্তরোদে ৩ ঘন্টা দাড়িয়ে থেকে ডিজেল না পেয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় হতাশ কন্ঠে বলেন ডিজেল যে কোথায় আছে আল্লা জানে।
লোহাগড়া উপজেলায় ৩ টি পাম্পে ডিজেল সরবরাহ করা হয়। বৈশ্বিক সমস্যা দেখা দিলে বাংলাদেশ সরকার কৃষক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে কারনে প্রতিটি পাম্পে সুসম বন্টনের জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেন। কিন্ত স্থানীয় প্রভাব ও পাম্প মালিক,পাম্প ষ্টাফদের স্বজনপ্রীতি ও অবৈধ মজুদের কারনে ডিজেল সংকটে পড়ছে স্যালো মেসিন চালিত বোরো চাষিরা। এযেন মরার উপর খাড়া ঘা।
লোহাগড়া উপজেলার দেবী গ্রামের কৃষক জালাল শেখ, মরিচ পাশা গ্রামের রউফ সরদার,কুচিয়াবাড়ি গ্রামের মজিবর,সরশুনা গ্রামের রাশেদুল, বাহিরপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর, চোরখালি গ্রামের মনিরুল সহ আরো অনেকে বলেন সরকার বলছে তেলের কোন ঘাটতি নাই। তবে আমরা পর্যপ্ত তেল পাচ্ছি না। চৈত্রের কাঠফাটা রোদে দাড়িয়ে লাইন দিয়েও তেল পাচ্ছি না। কিন্তু লাইন ছাড়া অনেকে ড্রাম ভর্তি করে তেল নিয়ে যাচ্ছে। এ তেল কোথায় যাচ্ছে আল্লা ভালো জানে। এখানে মনে হয় স্বজন প্রীতি ও মুখচিনে তেল দিচ্ছে। আমরা এর প্রতিকার চাই। কৃষি অফিস জানে কোন গ্রামে কে স্যালো মেসিন দিয়ে বোরো ধানের চাষ করে।
লোহাগড়া ফিলিং ষ্টেশনে দায়িত্ব প্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার লোহাগড়া উপজেলার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইমরান হোসেন বলেন আমাদের উপজেলায় ৪৪ টি ট্রাক্টরের নাম তালিকা ভুক্ত। কিন্ত আমরা দেখছি শতাধিক ট্রাক্টর পাম্প থেকে তেল নিচ্ছে। তারা মানছে না কোন নিয়ম নীতি।
এবিষয়ে লোহাগড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মুনমুন সাহা বলেন আমারা প্রকৃত কৃষককে তেলের কার্ড দিচ্ছি। ট্রাক্টর গাড়িতে ও দিচ্ছি। হয়তো কিছু অসাধু লোক কৃত্রিম সংকট তৈরী করছে। আমরা এবিষয়ে প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি।