রংপুরে সাব-রেজিস্টার অফিসে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ
সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী,রংপুর প্রতিনিধি ॥ রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাব-রেজিস্টার অফিসে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নিয়োগ তালিকা প্রণয়ন থেকে শুরু করে বয়স জালিয়াতি, ভুয়া সনদ ব্যবহার এবং মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিস্তর তথ্য।
জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, পূর্বের গ্রেডেশন তালিকা জালিয়াতির মাধ্যমে পরিবর্তন করে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী মহলের পছন্দের ব্যক্তিদের চাকরি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে অনেক কর্মচারী নিয়মবহির্ভূতভাবে ৬ বছর থেকে শুরু করে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন।
বিশেষ করে পীরগাছা সাব-রেজিস্টার অফিসে মোহরার পদে কর্মরত আঙ্গুরা বেগমের বিরুদ্ধে নিয়োগপত্র জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, “কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিয়োগপত্রের ভিত্তিতেই আমি চাকরি করছি। নিয়োগপত্র জাল হলে এতদিন চাকরি করা সম্ভব হতো না। ভোটার আইডিতে বয়সের ভুল ছিল, পরে তা সংশোধন করা হয়েছে।”
একইভাবে কাউনিয়া সাব-রেজিস্টার অফিসে মাহফুজা বেগমের বিরুদ্ধে নিজের বয়স মেয়ের বয়সের চেয়েও কম দেখিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা স্পষ্টতই বয়স জালিয়াতির ইঙ্গিত বহন করে।
পীরগাছা উপজেলার আইভী আক্তারের বিরুদ্ধেও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বিকৃত করে চাকরি নিশ্চিত করার অভিযোগ রয়েছে। যদিও তিনি বলেন, “এসএসসি পরীক্ষার পরই চাকরি পেয়েছি। জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল থাকায় পরে সংশোধন করা হয়েছে।”
অন্যদিকে, পীরগঞ্জ উপজেলার সাব-রেজিস্টার অফিসের অফিস সহায়ক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সনদপত্র ছাড়াই চাকরি নেওয়া এবং প্রকৃত বয়স গোপন করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি এ বিষয়ে বলেন, “আমার সব বৈধ কাগজপত্র অফিসে জমা দেওয়া আছে। যোগ্যতার ভিত্তিতেই চাকরি পেয়েছি।”
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে রংপুর সদর সাব-রেজিস্টার অফিসের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে। তিনি প্রায় ১২ বছর ধরে একই পদে মহাফেজখানায় দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, রেকর্ড রুমে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও জয়নাল আবেদীনের সহযোগিতায় অনেকে অবাধে প্রবেশ করছে। এ নিয়ে বাধা দিলে উল্টো হুমকির মুখে পড়তে হয় কর্মকর্তাদের। ইতোমধ্যে এ নিয়ে কয়েকবার অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে।
এছাড়া সহকারী ও মোহরার পদে নিয়োগ এবং বদলি প্রক্রিয়ায় বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে সাবেক জেলা রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম, মশিউর এবং মোহাম্মদ হোসেন বাবলুসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলে সরকারি সেবার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে জেলা-রেজিস্টার শামীমা পারভিন জানান, আমার এখোনে তিন মাস হলো বদলি হয়ে এসেছি সেকল অনিয়ম রয়েছে সেগুলো নিয়ে কাজ কাজ করছি। যাদের বিরিুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।