ভৈরবে সৌদী আকামা সংক্রান্ত মামলার আপস-মীমাংসা, ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধের মাধ্যমে সমাধান
সোহানুর রহমান সোহান নিজস্ব প্রতিনিধি:
“বিবাদ যখন আলোচনার টেবিলে আসে, তখন শত্রুতার দেয়াল ভেঙে সম্পর্কের নতুন দরজা খুলে যায়”— ঠিক এমনই এক মানবিক ও সময়োপযোগী দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের চানপুর বাজারে। দীর্ঘদিনের ভুল বোঝাবুঝি, মামলা ও উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছে একটি আপসনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষর অনুষ্ঠান।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে চানপুর বাজারে ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার পদপ্রার্থী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী ও বিএনপি নেতা হাজী শফিকুল ইসলামের অফিসে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে এই আপস-মীমাংসা অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, সৌদী আকামা সংক্রান্ত জটিলতাকে কেন্দ্র করে গত ৪ মে ভৈরব থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলার বাদী পক্ষ ছিলেন মধ্যেরচর পূর্বপাড়া এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে নয়ন মিয়া। অপর পক্ষ ছিলেন চানপুর এলাকার সালাম মিয়ার ছেলে আবুবক্কর। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও বিরোধের সৃষ্টি হলে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসেন।
পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষ শান্তিপূর্ণ সমাধানে উপনীত হন এবং লিখিত আপসনামা সম্পাদন করেন।
চুক্তিপত্র অনুযায়ী, দ্বিতীয় পক্ষ আবুবক্কর প্রথম পক্ষকে সর্বমোট ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং প্রথম পক্ষ সেই অর্থ সম্পূর্ণ বুঝে পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। একই সঙ্গে প্রথম পক্ষ ভৈরব থানায় দায়েরকৃত মামলাটি আইনগতভাবে প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তি করতে সম্মত হন।
চুক্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে এই ঘটনা বা আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে কোনো নতুন মামলা, জিডি কিংবা হয়রানিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। এছাড়া, সৌদী প্রবাসী নয়ন মিয়ার ভবিষ্যৎ কোনো দায়-দায়িত্ব দ্বিতীয় পক্ষ বহন করবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
এই আপসনামা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিমুলকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরুজ্জামান, ভৈরব উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান, শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক খোরশেদ আলম আল আমিন, সমাজকর্মী ফারুক আহাম্মেদ, সমাজসেবক জাকির এবং ইউপি সদস্য মতিন মিয়া স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয়রা জানান, বর্তমান সময়ে মামলা-মোকদ্দমা ও সামাজিক বিরোধ যেখানে দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বে রূপ নেয়, সেখানে আলোচনার মাধ্যমে এমন শান্তিপূর্ণ সমাধান সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে। অনেকেই এটিকে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহনশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
অনুষ্ঠান শেষে উভয় পক্ষ একে অপরের প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান