শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
শিক্ষা

শিরোনাম: ইবির নতুন উপাচার্য নিয়োগ: শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

Admin ১৭ May ২০২৬ · Sunday · ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ
শিরোনাম: ইবির নতুন উপাচার্য নিয়োগ: শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
শিরোনাম: ইবির নতুন উপাচার্য নিয়োগ : শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠিত প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ৪৭ টি বছর পার করেছে। ঐতিহ্যের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টির যুগোপযোগী উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। ১৫ মে, শুক্রবার পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে.এম মতিনুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন। নতুন উপাচার্য মহোদয়ের নেতৃত্ব, সহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক ও সম্ভাবনাময় প্রত্যাশার কথা তুলে ধরছি আমি মো. জাহিদ হাসান, শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

ঐতিহ্যের ইবি, আধুনিকতার প্রত্যাশা

স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গৌরব অর্জন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতি বছর হাজারো শিক্ষার্থী তাদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, ভর্তির শুরুতেই তাদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার মধ্যে দুরত্ব তৈরি হয়। ভর্তি কার্যক্রমে অতিরিক্ত সময় ও কায়িক ভোগান্তি— ব্যাংকের দীর্ঘ লাইন, নিশ্চায়ন-পরবর্তী ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া—সব মিলিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে এমন ব্যবস্থা মোটেও কাম্য নয়। শুধু ভর্তি কার্যক্রম নয়, অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ফর্ম পূরণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম, কিংবা সার্টিফিকেট উত্তোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনও যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ ও দুর্ভোগপূর্ণ। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর যে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হচ্ছে, কিংবা আমাদের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সংগৃহীত বইয়ের তথ্য অনেকাংশেই আমাদের অজানা রয়ে যায়। অথচ, আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এসব প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ, দ্রুত ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে তুলতে সক্ষম। দুঃখের বিষয়, শিক্ষার্থীদের এ যৌক্তিক প্রত্যাশা অপূর্ণই থেকে যায়। প্রতিষ্ঠার সাড়ে চার দশক পরও অনেক নবীন বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক পরিবেশ ও অবকাঠামোতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে টেক্কা দিচ্ছে। নতুন প্রশাসন ও নতুন উপাচার্যের কাছে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার প্রত্যাশা—তাঁরা যেন বাস্তবতা উপলব্ধি করে প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেন। শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের ইবি কেবল ঐতিহ্যে নয়, আধুনিকতায়ও অনন্য হোক, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রভাব রাখুক।

সোহেলী তাবাসসুম জান্নাত
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ।

শিক্ষার মানোন্নয়ন জরুরি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ তম ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে অধ্যাপক ড. এ.কে.এম মতিনুর রহমান স্যার কে অভিনন্দন জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় একটি জাতির জ্ঞান, গবেষণা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বর্তমান সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন উপাচার্যের কাছে আমার প্রথম প্রত্যাশা হলো একটি শিক্ষাবান্ধব ও গবেষণামুখী পরিবেশ গড়ে তোলা। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠদান পদ্ধতি, গবেষণাগার ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও উন্নত করা প্রয়োজন। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। আবাসন সংকট দূরীকরণ, সেশনজট নিরসন, গ্রন্থাগারের সীমাবদ্ধতা কমানো ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বৃদ্ধি প্রভৃতি বিষয়ে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আস্থা বৃদ্ধি করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রত্যাশায় থাকে পড়ালেখার পাশাপাশি একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস এবং নিরবিলি পরিবেশ। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পরিবেশ সৃষ্টি করাও অত্যন্ত প্রয়োজন। আশা করি, নতুন উপাচার্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবেন। দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত একটি সুন্দর শিক্ষাঙ্গন বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করবে। আমার প্রত্যাশা, নতুন উপাচার্য মহোদয় বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, মানবিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। তাঁর নেতৃত্বে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।

সাইফুদ্দীন সিদ্দীক
শিক্ষার্থী, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ।

নতুন নেতৃত্বে বদলে যাক ইবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য নিয়োগ শিক্ষাঙ্গনের সবার মনে নতুন আশা সঞ্চার করেছে। চার বছরের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন নেতৃত্বের কাছে শিক্ষার্থী হিসেবে আমার কিছু প্রয়োজনীয় প্রত্যাশার কথা তুলে ধরছি। এখানে আধুনিক ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদের হত্যাকাণ্ডের এখনো সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। অল্প কিছুদিন আগেই ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনা নিজ অফিস কক্ষে কর্মকর্তার দ্বারা হত্যার শিকার হয়েছেন। তাই, নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো জরুরি। অনলাইন ব্যাংকিং ও ডিজিটাল সেবার প্রসার, নির্মাণাধীন আবাসিক হল গুলো দ্রুত চালুর ব্যবস্থা, যাতায়াত সেবার মানোন্নয়ন, ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা প্রভৃতি বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে অনিয়ম, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, সহিংসতা এড়ানোর পাশাপাশি উল্লিখিত দুটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে আস্থা ফিরে আসবে। গবেষণা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে সমান গুরুত্ব দিয়ে একটি শান্ত, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে পারলেই নতুন উপাচার্য মহোদয়ের নেতৃত্ব সার্থক হবে।

তানিয়া রহমান 
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ।

আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস চাই

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হচ্ছে তার শিক্ষার্থীরা। আর সেই প্রাণের স্পন্দন যথাযথভাবে চালু রাখার গুরুদায়িত্ব থাকে উপাচার্যের কাঁধে। সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একজন গুণী শিক্ষক উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যা নিরসন করে একটি আধুনিক, সেশনজটমুক্ত এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে উপাচার্য স্যারের কাছে একগুচ্ছ প্রত্যাশা তুলে ধরেছি।
১. শিক্ষাব্যবস্থার বিশ্বায়ন ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতকরন: ​একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এখন সময়ের দাবি। স্যারের কাছে আমার প্রত্যাশা, বৈশ্বিক বাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম আপডেট করা, বিশ্বের নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে ক্রেডিট ট্রান্সফার ও স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালু করা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষকদের সাথে যৌথ গবেষণা প্রকল্প বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান সুসংহত করা।
২. সেশনজট নিরসন ও একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন: শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি হলো সেশনজট নির্মূল করা, নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ এবং দ্রুত ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে একাডেমিক ক্যালেন্ডার কঠোরভাবে অনুসরণ করা। এছাড়া, অনেক বিভাগে তীব্র শিক্ষক সংকট রয়েছে, যা শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। দ্রুত মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাও জরুরি।
৩. ডিজিটাল সেবা: বর্তমান প্রযুক্তির যুগে এনালগ পদ্ধতিতে কাজ চালানো সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য। শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করেন, ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন, সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট উত্তোলনের প্রক্রিয়া অনলাইন করা।
৪. আবাসন ও হলের খাবারের মান বৃদ্ধি: আবাসন সংকট বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চিরচেনা সমস্যা। সিট বন্টনে স্বচ্ছতা আনা এবং গণরুম সংস্কৃতি বন্ধের দাবি দীর্ঘদিনের। পাশাপাশি, হলের খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ চরমে। নতুন উপাচার্য মহোদয়ের মাধ্যমে ডাইনিংয়ের খাবারের মান উন্নয়নে ভর্তুকি বৃদ্ধি ও তদারকি জোরদার করা হবে বলে আশাবাদী।
৫. অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ক্লাসরুম বন্টন: বিভাগভেদে ক্লাসরুম বন্টনে বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন। অনেক বিভাগে পর্যাপ্ত ক্লাসরুম নেই, আবার কোথাও অব্যবহৃত হয়ে পড়ে থাকে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ক্লাসরুমের সঠিক ও যৌক্তিক বন্টন শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করবে।
৬. সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের চলাচলে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং প্রক্টরিয়াল বডির তৎপরতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে একটি শঙ্কাহীন ক্যাম্পাস তৈরি করা সম্ভব।
৭. উৎসবের ছুটিতে বিভাগীয় বাস সার্ভিস: পবিত্র ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা বা দীর্ঘ ছুটিতে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে ফেরার পথ অনেক সময় যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর জোর দাবি জানাই।

শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি এমন একজন অভিভাবক চাই, যিনি কেবল প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে নন, বরং শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো সহানুভূতির সাথে শুনবেন এবং নিরসনের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নিবেন।

আহসান হাবিব 
শিক্ষার্থী, ল অ্যান্ড ল্যান্ড এডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ।

শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি: বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন

বিশ্ববিদ্যালয় একজন শিক্ষার্থীর আবেগের জায়গা। সে হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত মান ও পরিবেশ নিয়ে সে সচেতন থাকে। নতুনত্ব সবসময়ই আশাজাগানিয়া। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া। ৪৭ বছরের ইতিহাসে সর্বশেষ ১৫ তম ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে দ্বায়িত্ব গ্রহন করলেন অধ্যাপক ড. এ.কে.এম মতিনুর রহমান স্যার। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী ইবিকে নিয়ে প্রত্যাশার ঝুলি বেশ ভারী। সেক্ষেত্রে স্যারের উপরে দ্বায়িত্বের ভার অনেকটাই বেশি। শিক্ষার্থী হিসেবে আমার দৃষ্টিকোণ থেকে আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান উন্নয়ন করা জরুরি। যাতে করে শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, বরং শিক্ষার্থীরা বাস্তবেই যোগ্য হয়ে ওঠে। গবেষণাধর্মী পড়ালেখায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা করা দরকার। শিক্ষার গুণগত পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ব্যাক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শ ফলানো বন্ধ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বডিকে অতিসত্বর  আধুনিকায়ন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল আইডি কার্ডের আওতায় আনতে হবে এবং বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আবাসন সংকট কাটাতে ও একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করতে নির্মাণাধীন অবকাঠামোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবস্থান দৃঢ় করার লক্ষ্যে পরিপূর্ণ লাইব্রেরি সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।
সর্বোপরি, নতুন উপাচার্য মহোদয় শিক্ষার্থীদের যুক্তিসঙ্গত প্রাণের দাবি পূরণে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।

মো. লোকমান শাকিল 
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ।

ইবির আকাশে আশার আলো

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.কে.এম মতিনুর রহমান স্যারের দায়িত্ব গ্রহণে শিক্ষার্থীদের মনে নতুন করে আস্থা তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ইসলামি শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে এর একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘকাল বিবেচনা করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন সামান্যই বলা যায়। একজন শিক্ষার্থী তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিক্ষার্থীর পরিচর্যা ও মানসিক উৎকর্ষের দায়ভার অনেকাংশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর বর্তায়। আমার প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য  যাতে সর্বদা বাস্তবায়ন হয়। আধুনিক মানের চিকিৎসা সেবা— মেডিকেল সেন্টারে অন্তত দুই জন ডাক্তার যাতে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকেন সেটি নিশ্চিত করতে হবে। মেয়ে শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চার জন্য জিমনেশিয়ামে নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা দরকার। পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওয়ায় আনতে হবে। আলোচিত দুটি হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান বাড়াতে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। ক্যাম্পাসে ধূমপান বন্ধ করতে সরকারের জারিকৃত আইনের প্রয়োগ ঘটাতে হবে। নিরাপত্তার জন্য বহিরাগত প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা দরকার। মীর মুগ্ধ সরোবরের সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার। কমনরুম সুবিধার ক্ষেত্রে প্রত্যেক বিল্ডিংয়ে কমপক্ষে দুইটি কক্ষ বরাদ্দ করা দরকার। ইন্টারনেট সেবার মান বৃদ্ধি করতে স্টারলিং প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষভাবে নজর দেওয়া জরুরি। আশা রাখছি, মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের হাত ধরে প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় যথাসম্ভব এগিয়ে যাবে।

নওশিন শারমিলি
শিক্ষার্থী, আল ফিকহ এন্ড ল বিভাগ।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন

স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক: বর্তমান প্রেক্ষাপট-মোহাম্মদ মনঞ্জুর হোসেন

স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক: বর্তমান প্রেক্ষাপট-মোহাম্মদ মনঞ্জুর হোসেন

 মোহাম্মদ হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার:গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীন...

০৬ June ২০২৬ · Saturday · ০৩:১২ পূর্বাহ্ণ
ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্স ময়মনসিংহ জেলা নব নির্বাচিত কমিটির সংবর্ধনা ও পরিচিতি সভা

ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্স ময়মনসিংহ জেলা নব নির্বাচিত কমিটির সংবর্ধনা ও পরিচিতি সভা

 মোঃ শহিদুল ইসলাম, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহ জেলা ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্স এর আয়োজন...

০৬ June ২০২৬ · Saturday · ০১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
কেএমপির বিশেষ যৌথ অভিযানে ৬৩ জন গ্রেফতার, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার; জব্দ ১১ মোটরসাইকেল ও পিকআপ

কেএমপির বিশেষ যৌথ অভিযানে ৬৩ জন গ্রেফতার, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার; জব্দ ১১ মোটরসাইকেল ও পিকআপ

 নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা:খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) উত্তর ও দক্ষিণ বিভাগের উদ্য...

০৬ June ২০২৬ · Saturday · ০১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
নান্দাইলে ১৪৪ ধারা জারি

নান্দাইলে ১৪৪ ধারা জারি

 মোঃ শহিদুল ইসলাম, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া এলাকায় দুই...

০৬ June ২০২৬ · Saturday · ০১:৫১ পূর্বাহ্ণ