ত্রিশালে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ, এলাকাবাসীর বাধায় কাজ বন্ধ
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সদর ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে চলমান একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
জানা গেছে, ত্রিশাল সদর ইউনিয়নের আউলটিয়া থেকে পাঁচপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার সড়কের উন্নয়নকাজ চলছিল। তবে নির্মাণের শুরু থেকেই সাব-বেজ স্তরের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত মান বজায় না রেখে তৃতীয় শ্রেণির ইটের খোয়া, রাবিশ ও অতিরিক্ত বালু ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৫০০ মিটার সড়কের মধ্যে প্রায় ১০০ মিটার অংশে সাব-বেজ স্তরের কাজ চলমান ছিল। সেখানে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করে তার ওপর সামান্য ভালো মানের খোয়া ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। এছাড়া মূল সড়ক থেকে প্রায় ২০ ফুট অংশ ব্যক্তিগত একটি বাড়ির উঠান পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাব-বেজ স্তরের কাজের আগে পুকুরের পাড় সিলিং কাজেও অনিয়ম করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরিমাণ সিমেন্ট ব্যবহার না করায় এবং উচ্চতা কম রাখায় ইতোমধ্যেই সড়কের কিছু অংশ ধসে যেতে শুরু করেছে। প্রকৌশল বিভাগের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে এসব অনিয়ম হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “এই এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি ভালো সড়কের অপেক্ষায় ছিল। বহুদিন পর উন্নয়নকাজ শুরু হলেও তা নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে করা হচ্ছে। এটি উন্নয়ন নয়, উন্নয়নের নামে লুটপাট। এই রাস্তা এক মৌসুমও টিকবে না।”
নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদে এলাকাবাসী কাজে বাধা দিলে বর্তমানে সাব-বেজের কাজ বন্ধ রয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, আউলটিয়া থেকে পাঁচপাড়া পর্যন্ত ৫০০ মিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯ লাখ ২০ হাজার ৪২৯ টাকা। প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের মে মাসে এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স রওনারা ট্রেডিং।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রওনারা ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী রাহাত মুঠোফোনে বলেন, “আমি সরাসরি সাইটটি দেখছি না, আমার ম্যানেজার কাজ তদারকি করছে। কিছু নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে এলাকাবাসী বাধা দিয়েছে। বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। সড়কে থাকা নিম্নমানের সব মালামাল অপসারণ করে নতুন সামগ্রী দিয়ে কাজ পুনরায় শুরু করা হবে।”
উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহানুর রহমান সোহাগ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঠিকাদারকে নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণের জন্য লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে এবং দ্রুত পুনরায় শুরু হবে। তিনি আরও জানান, ব্যক্তিগত বাড়ির উঠান পর্যন্ত সড়ক নেওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের সঙ্গে ঠিকাদারের সমন্বয়ের মাধ্যমে হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে ঠিকাদারকে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে । এ সড়কটি উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহানুর রহমান দেখছেন। এ ব্যাপারে উনিই ভাল বলতে পারবেন"।