শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
সম্পাদকীয়

শিক্ষার্থীদের স্মৃতিতে শৈশবের ঈদ

Admin ২৮ May ২০২৬ · Thursday · ০৯:৫৬ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের স্মৃতিতে শৈশবের ঈদ
শিক্ষার্থীদের স্মৃতিতে শৈশবের ঈদ

'ঈদ' মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর একসাথে থাকার এক অপূর্ব অনুভূতি। ঈদ আমাদের জীবনে নিয়ে আসে শান্তির বার্তা। এই দিনে ছোট-বড় সবাই নতুন স্বপ্নে সাজে, অভিমান ভুলে মানুষ মানুষকে আপন করে নেয়। ঈদের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো—এটি শুধু উৎসব নয়, হৃদয়ের মিলনও। পরিবারের সাথে কাটানো সময়, বন্ধুদের শুভেচ্ছা, আর প্রিয় মানুষের মুখের হাসিই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য। কোরবানির ঈদ দেয় ত্যাগের শিক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যারিয়ার ভাবনা ও ভবিষ্যত চিন্তার  মাঝে যেন আমরা ঈদের আনন্দ হারিয়ে যেতে বসেছি। ঈদ যে আনন্দ ও ভালোবাসায় মুখরিত হওয়ার উৎসব তা শৈশব স্মৃতিই মনে করিয়ে দেয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের শৈশবের ঈদের স্মৃতি তুলে ধরছি আমি নওশিন শারমিলি, শিক্ষার্থী, আল ফিকহ্ এন্ড ল বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

জীবনের এক রঙিন অধ্যায়

​ছোটবেলার ঈদ মানেই ছিল পড়াশোনা থেকে কয়েকদিনের জন্য একদম মুক্তি। ঈদের ছুটি শুরু হতেই মনটা খুশি আর আনন্দে ভরে উঠতো। বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন, ভাই-বোন সকলে মিলে একসাথে যেন চাঁদের হাট বসতো। সবচেয়ে বেশি মজা হতো চাঁদ রাতে। আকাশে নতুন চাঁদ দেখা মাত্রই সবাই মিলে একসাথে বসে পড়তাম মেহেদি দিতে। দু-হাত ভরে মেহেদি লাগানো শেষ করে অনেক রাত পর্যন্ত চলতো বাজি ফোটানোর আনন্দ। ​ঈদের দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়তাম। প্রথমে সেমাই খেয়ে, তারপর নতুন জামাকাপড় পরে সুন্দর করে সেজেগুজে বড়দের সালাম করতাম। সালামি হিসেবে পাওয়া সেই কচকচে নতুন নোটগুলোর আনন্দই ছিল আলাদা! এরপর আর ঘরে মন টিকতো না; বন্ধুদের সাথে বেরিয়ে পড়তাম সবার বাড়ি দাওয়াত খেতে। সারাদিন এভাবেই হইচই করে ঘুরে বেড়াতাম। ​কোরবানির ঈদের আনন্দটা আবার ছিল অন্যরকম। তখন সব কৌতূহল আর আয়োজন আবর্তিত হতো নতুন গরুকে ঘিরে। মাংস বিলি করার সময় পাড়ার বাড়ি বাড়ি ছুটে বেড়ানোর সেই আনন্দ ছিল সীমাহীন। সত্যি বলতে, সহজ-সরল সেই শৈশবের ঈদ, মেহেদির রঙ, সালামির নতুন টাকা, সেমাইয়ের মিষ্টি গন্ধ আর সবার ভালোবাসা মেশানো দিনগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে রঙিন অনুভূতি হয়ে থাকবে।

জিন্নাত আলভী 
শিক্ষার্থী, গনিত বিভাগ।

ছোটবেলার ঈদ যেন আনন্দের এক পসরা সাজিয়ে তুলতো। ঈদের আগের রাতে মায়ের পাশে বসে মেহেদি লাগানো ছিল সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষার বিষয়। হাতে ফুল, পাতা, চাঁদের ছবি আঁকতে গিয়ে অনেক সময় পুরো হাতই রঙে মাখামাখি হয়ে যেত। তারপর, বারবার হাতের দিকে তাকিয়ে দেখা—রং ধরল কি না। ঈদের সকালে আলমারি থেকে নতুন জামাটা বের করেই মনটা আনন্দে নেচে উঠতো। ফ্রক হোক বা ঘাগরা, রঙিন জামা পরে আয়নার সামনে ঘুরে ঘুরে নিজেকে দেখা, খোঁপায় বেলিফুল গুঁজে দিলে মনে হতো সত্যিই বুঝি এক রাজকন্যা হয়ে গেছি। সালামি পাওয়ার আনন্দটাই ছিল আলাদা। দুই টাকা, পাঁচ টাকা হাতে পেলেই মনে হতো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী আমি। সেই টাকা দিয়ে বান্ধবীদের সাথে মিলে রিবন, ক্লিপ, ছোট পুতুল কিনে সারা দুপুর খেলা। কেউ কারো জামা টেনে ছিঁড়ে ফেললেও রাগ হতো না, কারণ ঈদের দিনে রাগ করতে নেই। দুপুরে মায়ের হাতের সেমাই, পায়েস খেয়ে পেট ভরে যেত। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভরে থাকত মন—বাড়ির মানুষগুলোর হাসি, গল্প, আর একসাথে বসে খাওয়ার সেই শান্তিতে। এখন বড় হয়েছি। ঈদ আসে, যায়। কিন্তু ছোটবেলার সেই সরল আনন্দ, মেহেদির গন্ধ, আর মায়ের ডাকে একসাথে বসে খাওয়ার স্মৃতি এখনো মনের ভেতর যত্নে রাখা আছে।

ঐশী শেখ
শিক্ষার্থী, আল ফিকহ্ এন্ড ল বিভাগ।

স্মৃতির ক্যানভাসে শৈশবের ঈদ

পড়ল মনে শৈশবর সেই ঈদের দিনের ছবি,
মাঠের কোণে বাজছে কাঁসর, উঠছে নতুন রবি।
— আল মাহমুদ

শৈশব আর ঈদ—এই দুটি শব্দ যেন একে অপরের পরিপূরক। তখন ঈদ মানেই ছিল এক টুকরো স্বর্গীয় আনন্দ, যা আজকের ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনের ভিড়ে অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে স্মৃতির জানলা দিয়ে বারবার উঁকি দিচ্ছে সেই সোনালি দিনগুলো। তখনকার চাঁদ রাতের অস্থির প্রতীক্ষা, নতুন জামার ঘ্রাণে বিভোর হওয়া আর বালিশের পাশে জামা রেখে ঘুমানোর ব্যাকুলতা ছিল একেবারেই অকৃত্রিম। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের আগে বাবার হাত ধরে হাটে যাওয়া, হাটের কাদা মাড়িয়ে গরু পছন্দ করা, আর ফেরার পথে গরুর গলায় লাল ফিতা বেঁধে বীরের বেশে বাড়ি ফেরার আনন্দ ছিল আকাশছোঁয়া। বাড়ির উঠোনে পরম মমতায় পশুর যত্ন নেওয়া, আর বন্ধুদের সঙ্গে ‘কার গরু বড়’ তা নিয়ে মিষ্টি প্রতিযোগিতা—এসবের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল নির্মল সুখ। ঈদের নামাজ শেষে বড়দের সালাম করে পাওয়া সেই কচকচে ঈদির নোট যেন ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তখন জীবনে কোনো দায়িত্বের চাপ ছিল না, ছিল না ব্যস্ততার ক্লান্তি। বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে সেমাই-মিষ্টি খাওয়া, সারাদিন টো-টো করে ঘুরে বেড়ানো আর ছোট ছোট আনন্দে মেতে ওঠার মাঝেই ছিল ঈদের আসল সৌন্দর্য। আজও ঈদ আসে, আনন্দও আসে; কিন্তু কোথায় যেন হারিয়ে গেছে সেই সরলতা। এখনকার ঈদে যোগ হয়েছে লৌকিকতা, দায়িত্ব আর একরাশ ক্লান্তি। তবুও মন বারবার ফিরে যেতে চায় সেই ফেলে আসা শৈশবে, যেখানে ঈদ মানেই ছিল বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, নির্মল হাসি আর হৃদয়ের গভীরে গেঁথে থাকা অমলিন স্মৃতির এক অনন্য মহাকাব্য।

মোঃ সাইফুল হক 
আরবী ভাষা ও সাহিত্য‌ বিভাগ।

অমলিন ঈদের স্মৃতি

'ঈদ' মানে আনন্দ, 'ঈদ' মানে খুশি’— চিরায়ত এই কথাটির তাৎপর্য খুঁজতে গিয়ে আসলে ছোটোবেলা ছাড়া আর অন্য কোনো সময়ের সাথে মিল খুঁজে পেলাম না। যান্ত্রিকতার করাল গ্রাসে আধুনিক সময়ে এসে আজ আমাদের বড়বেলার উৎসবগুলো যখন কৃত্রিমতার চাদরে ঢাকা, তখন শৈশবের প্রতিটি ঈদ ছিল যেন একেকটি জীবন্ত রোমাঞ্চের মহাকাব্য। যার মায়াবী আলো আর সুবাস আজও আমার স্মৃতির ক্যানভাসে ঠিক ততটাই অমলিন, ততটাই উজ্জ্বল। ঈদের আগে প্রথইমে যে আনন্দ টা পেতাম সেটা হচ্ছে স্কুল ছুটি। প্রতিদিন সকালে উঠে হিসাব করতাম আর কতোদিন আছে। ছোটোবেলায় অধিকাংশ ঈদ আমার নানু বাড়িতে কাটিয়েছি।বড় মামা ঢাকা থেকে আমার জন্য নতুন জামা নিয়ে আসতো প্রতিবারই। ঈদের আগের দিন রাতে চাঁদ দেখার যেনো ধুম পড়ে যেতো। কোনোমতে যেই একবার চাঁদ দেখা দিলো আর সেই খুশিতে সবার কাছে ছুটে ছুটে চলতাম, আর বলতাম, "কাইলকাই (আগামীকালই) ঈদ অইবো।" আহ্ কি আনন্দ! রাতের বেলায় নতুন জামা সাথে করে নিয়ে ঘুমাতাম। রাতে  আম্মু, আপু কখন যে হাতে মেহেদী পাতা দিয়ে দিতো টের পেতাম না । সকালে উঠে রঙিন হাত দেখে মন আনন্দে ভরে উঠতো। অন্যান্য দিন ফজরে মানুষ না হলেও ঈদের দিন ফজরের সময় মজসিদটা টইটম্বুর হয়ে যেতো। নামাজ শেষে গ্রাম বাংলায় প্রচলিত মিলাদ মাহফিল হতো। তারপর আম্মু গোসল করিয়ে দিতো। সকাল বেলায় মিষ্টিমুখ করে ঈদের নামাজের জন্য রওনা হতাম আব্বুর সাথে। আব্বু, আম্মু, নানু, মামা সবাই সালামি দিতো। সেটা পেয়ে যেনো একমূুর্তের জন্য নিজেকে বড়লোক ভাবতাম, আর সবাইকে দেখাতাম। তারপর আব্বুর হাত ধরে রওনা হতাম ঈদগাহ ময়দানের পানে। নতুন পাঞ্জাবি আর টুপির সুবাসে চারপাশটা আমোদিত হয়ে থাকত। পাড়ার সব ছোট-বড় মানুষ যখন এক কাতারে দাঁড়িয়ে সবাই মিলে ঈদের নামাজ আদায় করতাম, তখন মনে হতো পৃথিবীর সব মানুষ যেন এক পরম আত্মীয়তায় বাঁধা পড়েছে। নামাজ শেষে পরিচিত-অপরিচিত সবার সাথে বুক মিলিয়ে কোলাকুলি করার সেই আনন্দ ছিল নিখাদ, যেখানে কোনো ভেদাভেদ ছিল না। আব্বুর পকেট থেকে পাওয়া নতুন চকচকে নোটের সালামি খরচ করে গরম গরম মিষ্টি কিনে নিয়ে আসা ছিল ঈদের অন্যতম এক অনুষঙ্গ। সেই গরম জিলাপি আর মিষ্টির ঠোঙা হাতে নিয়ে যখন বাড়ি ফিরতাম, মনে হতো যেন রাজপ্রাসাদের কোনো অমূল্য সম্পদ জয় করে ফিরছি। দুপুরের দিকে শুরু হতো আত্মীয়দের বাড়ি যাওয়ার পালা। ফুফু, চাচাদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া এবং তাঁদের জড়িয়ে ধরে আরও এক দফা সালামি আদায় করার আনন্দই ছিল আলাদা। বড়দের দোয়ায় আর ভালোবাসায় দিনটি ধন্য হয়ে উঠত। বিকেলের আলো ফুরিয়ে আসার সাথে সাথে শুরু হতো আমাদের আসল রাজত্ব। ফুফাতো, চাচাতো আর খালাতো ভাইবোন সকলে মিলে খেলাধুলা করা, গল্প করা আর নিজেদের সালামির হিসাব মেলানোর মাঝেই কেটে যেত ঈদের সোনালি সন্ধ্যা। এখন মনে হয় আবার যদি ফিরে যেতে পারতাম সেই সোনালি সময়ে সোনালি ক্ষণে । যা রেখে এসেছি তা চিরকালের জন্যই রেখে এসেছি। রয়ে গেছে শুধু স্মৃতিটুকু।

সুমন রানা
শিক্ষার্থী, ল এন্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ।

ত্যাগ, সৌন্দর্য ও ভালোবাসার উৎসব

পবিত্র ঈদুল আযহা— শুধু আনন্দ উৎসব নয়, বরং তা বহন করে এক ঐতিহাসিক খোদাভীরু ও ধৈর্যের শিক্ষা। ঐতিহাসিকভাবে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ও হযরত ইসমাইল (আঃ) যে ত্যাগের শিক্ষা দিয়েছেন, তা অনুসরণ করেই উম্মতের শত সহস্র মানুষ আজ ইনসাফ ও কল্যাণের জন্য, দেশ বা দ্বীনের জন্য নিজেকে কুরবাণী করার মত দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন। শুধু পশু কুরবানী নয়, বরং নিজের মধ্যে পশুত্ব কুরবানী দেওয়াটা হোক অন্যতম উদ্দেশ্য। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানী করে তা দিয়ে ভোজ যেন ছোটবেলা থেকেই আলাদা এক অনুভূতি। তার সাথে আমেজ আরো বৃদ্ধি করে বাবা-চাচাদের সাথে পশুর হাট ভ্রমণ ও যেটি রাজশাহীর মানুষ আদর করে 'কালাভুনা মিশন' হিসেবে দেখে। সবকিছু মিলিয়েই পবিত্র ঈদুল আযহা এক অন্যতম আনন্দ ও শিক্ষার নাম। ছোটবেলায় বাবা ওচাচার সাথে কোরবানির পশু কিনতে হাটে যাওয়া অন্যরকম ভালোলাগার অনুভূতি ছিল। তারপর ঈদের সকালে ঈদগাহে যাওয়া, ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি করা, ঈদগাহ থেকে এসে কোরবানীর পশু জবাই করে তার গোশত বন্টন করা জীবনের অমূল্য স্মৃতি। আল্লাহ আমাদের সকলের কোরবানী কবুল করুন।

ত্বকী ওয়াসীফ
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ।

হৃদয়ে অম্লান থাকুক শৈশবের ঈদের স্মৃতি

শৈশবের ঈদের স্মৃতিগুলো ছিল নির্মল আনন্দ, আর বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস নিয়ে। ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠা, নতুন কাপড় পরে ঈদের জন্য প্রস্তুত হওয়া, আর ঈদী সংগ্রহ করার আনন্দ‌ সব মিলিয়ে মনে হতো যেন পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ আমরাই। ঈদের আগের রাতে উচ্ছ্বাসের কারণে ঘুমই আসতো না। নতুন জামা-কাপড়, আর জুতা পাশে সাজিয়ে রেখে ঘুমাতে যেতাম। গভীর ঘুমের পর মুয়াজ্জিনের সুমধুর আজানের ধ্বনি শুনেই জেগে উঠতাম। ঈদের সকালে উঠে বাবা-মাকে চুমু দিতাম। এরপর বাবা-মায়ের পরম যত্নে কিনে দেওয়া ঈদের নতুন পোশাক পরতাম। সালামির টাকা ছাড়া  ঈদের আনন্দই পূর্ণ হতো না। বাবা-মা ও আত্মীয় স্বজনদের থেকে সালামি নিয়ে বাবার হাত ধরে ঈদের মাঠে যেতাম, আর ভাবতাম, মাঠে গিয়ে কোন কোন খেলনা, কোন কোন খাবার কিনবো। ঈদগাহে গিয়ে দেখতাম, রঙিন পোশাকে সেজে ওঠা মানুষে গমগম করছে। চেনা হোক বা অচেনা, দেখা হলেই ঈদ মোবারক বলতাম সবাইকে। একে অপরের সাথে হাত মিলাতাম, জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করতাম এবং মন থেকে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতাম। দুপুরে ঈদের মাঠ থেকে এসেই মায়ের হাতের সেমাই, আর নানা পদের রান্না খাওয়া হতো। তারপর শুরু হতো আমার দুষ্টুমি— কাজিনদের সাথে চোর পুলিশ খেলতাম। বিকেল হলেই পাড়ার সব বন্ধুরা মিলে নতুন জামা পরে ঘুরতে বের হতাম এবং পকেটের খুচরা টাকায় রঙিন বেলুন বা আইসক্রিম কেনা ছিল এক দারুণ রোমাঞ্চ। ঘুরতে ঘুরতে রাত হয়ে যেত। মা বাড়ি ফেরত যাওয়ার জন্য ডাকতে আসতো, তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেতে হতো। শৈশবের এই ঝলমলে মুহূর্তগুলোই আমাদের জীবনের এক অনন্য স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে। যদিও বড় হওয়ার সাথে সাথে ঈদের রূপ ও দায়িত্ব অনেক পাল্টে গেছে। কিন্তু মনের কোণে আজও জ্বলজ্বল করে সেই ছোট্টবেলার হারানো দিনগুলো

রেদোয়ান আহমাদ
শিক্ষার্থী, আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন

স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক: বর্তমান প্রেক্ষাপট-মোহাম্মদ মনঞ্জুর হোসেন

স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক: বর্তমান প্রেক্ষাপট-মোহাম্মদ মনঞ্জুর হোসেন

 মোহাম্মদ হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার:গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীন...

০৬ June ২০২৬ · Saturday · ০৩:১২ পূর্বাহ্ণ
ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্স ময়মনসিংহ জেলা নব নির্বাচিত কমিটির সংবর্ধনা ও পরিচিতি সভা

ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্স ময়মনসিংহ জেলা নব নির্বাচিত কমিটির সংবর্ধনা ও পরিচিতি সভা

 মোঃ শহিদুল ইসলাম, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহ জেলা ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্স এর আয়োজন...

০৬ June ২০২৬ · Saturday · ০১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
কেএমপির বিশেষ যৌথ অভিযানে ৬৩ জন গ্রেফতার, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার; জব্দ ১১ মোটরসাইকেল ও পিকআপ

কেএমপির বিশেষ যৌথ অভিযানে ৬৩ জন গ্রেফতার, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার; জব্দ ১১ মোটরসাইকেল ও পিকআপ

 নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা:খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) উত্তর ও দক্ষিণ বিভাগের উদ্য...

০৬ June ২০২৬ · Saturday · ০১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
নান্দাইলে ১৪৪ ধারা জারি

নান্দাইলে ১৪৪ ধারা জারি

 মোঃ শহিদুল ইসলাম, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া এলাকায় দুই...

০৬ June ২০২৬ · Saturday · ০১:৫১ পূর্বাহ্ণ