রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহরুজ্জামান মোর্ত্তজার শেষ বিদায়
মো: আল-মাহফুজ শাওন
খুলনার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী সংগঠক ও বিএনপির প্রবীণ নেতা শাহরুজ্জামান মোর্ত্তজাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) অনুষ্ঠিত জানাজা শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে খুলনা নগরীর টুটপাড়া কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
শাহরুজ্জামান মোর্ত্তজা ছিলেন খুলনার রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়িক অঙ্গনের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি, খুলনা জেলা যুবদলের প্রথম সভাপতি এবং খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে খুলনাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ী নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। এ সময় প্রিয় এই নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে মানুষের ঢল নামে।
জানাজা ও দাফান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল জনাব গোলাম পরওয়ার, খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হোসাইন মোহাম্মদ হেলাল, খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অংশ হিসেবে পুলিশ সদস্যদের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় উপস্থিত সবাই গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান। পরে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
শোক প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, শাহরুজ্জামান মোর্ত্তজা ছিলেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামী সৈনিক। তিনি ছিলেন খুলনাবাসীর অত্যন্ত প্রিয় নেতা, যিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সবসময়। তাঁর নেতৃত্ব, সততা ও সাহসিকতা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
বক্তারা আরও বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এবং পরবর্তীকালে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর মৃত্যুতে খুলনার রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়িক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
সবশেষে টুটপাড়া কবরস্থানে পারিবারিকভাবে তাঁকে দাফন করা হয়। দাফনের সময় পরিবার-পরিজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।