প্রতারক সেই বিএনপি নেতাকে বহিষ্কারের দাবি কৃষকদল নেতার
সরকারি সুবিধা ও বিভিন্ন রকমের কার্ড দেয়ার কথা বলে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া সেই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি হুমায়ন কবির। সোমবার বিকালে নিজ দলীয় কার্যালয়ে হুমায়ন কবির সংবাদ সম্মেলন করে প্রতারক বিএনপি নেতা সোহেল রানার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান। এ সময় বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান ও কাওসার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে প্রতারণার অভিযোগে উপজেলার পাড় ভাঙ্গুরা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের বিএনপি'র সহ-সভাপতি সোহেল রানাকে পিটিয়ে থানায় সোপর্দ করে ভুক্তভোগী জনগণ। এর প্রায় তিন দিন পার হয়ে গেলেও ইউনিয়ন কিংবা উপজেলা বিএনপি এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেননি। এই ঘটনায় শনিবার রাতে মামলা দায়ের হয়। তবে সোহেল রানা পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহেল উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। সে পূর্ব থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পূর্বেও সোহেল বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে সোহেল রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। পরে ভাঙ্গুড়া ত্যাগ করে চলে যায়। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে সোহেল ভাঙ্গুড়াতে ফিরে আসে। ভাঙ্গুড়া এসেই সে আবারো চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায় সোহেল ভাঙ্গুড়া বাজার, পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া , পাটুলিপাড়া, ভেড়ামারা, পারভাঙ্গুড়া গ্রামের অর্ধ শতাধিক মানুষকে ভিজিডি কার্ড, পানির পাম্প, সরকারি প্রকল্পের ঘর সহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দেওয়ার কথা বলে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু টাকা দেয়ার পরে সাত-আট মাস পেরিয়ে গেলেও কোন সুবিধা পায়নি অধিকাংশ ভুক্তভোগী। ফলে ভুক্তভোগীদের একাংশ সোহেলকে পিটুনি দিয়ে শনিবার রাতে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে শনিবারে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের ৩০ জন ভুক্তভোগী।
হুমায়ন কবির আরো বলেন, দলের পদে থাকা এমন একজন নেতার এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। তাই দ্রুত ওই অভিযুক্ত নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা প্রয়োজন। কিন্তু এ বিষয়ে উপজেলা অথবা ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অতিসত্বর এ বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে দলের ভাবমূর্তি উজ্জলের জন্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দের আহ্বান জানাই।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাফর ইকবাল হীরক বলেন, অভিযুক্ত নেতা সোহেল রানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইউনিয়ন বিএনপিকে বলা হয়েছে।
ফটো ক্যাপশন: ১. বক্তব্য রাখছেন উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি হুমায়ন কবির।
২. বিএনপি নেতা সোহেল রানাকে পিটিয়ে দড়ি দিয়ে বাঁধছেন ভুক্তভোগীরা।