ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল
জবি প্রতিনিধি:
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে গতকাল সোমবার (৮ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন মানববন্ধনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শাখা ছাত্রদলের সহস্রাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। ছাত্রদল নেতারা দাবি করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালনের চেষ্টা শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করার অপচেষ্টা। এর প্রতিবাদ এবং ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও অস্থিতিশীলতার রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান জানাতেই এ বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে ভিসি ভবন, বিজ্ঞান অনুষদ ভবন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ প্রদক্ষিণ করে শান্ত চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল এবং সদস্য সচিব শামছুল আরেফিন।
জবি ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদি হাসান হিমেল বলেন, “নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালনের যে অপচেষ্টা হয়েছে, তা সাধারণ শিক্ষার্থীরা কখনো মেনে নেবে না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও ভয়ভীতির রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখতে ছাত্রদল সর্বদা সোচ্চার থাকবে। ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।”
সদস্য সচিব শামছুল আরেফিন বলেন, “গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে নিষিদ্ধ সংগঠনের পুনর্বাসনের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি শিক্ষার পরিবেশসম্পন্ন ক্যাম্পাস। এখানে সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতির রাজনীতি ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল, সদস্য সচিব শামছুল আরেফিন,যুগ্ন আহবায়ক জাফর আহমেদ, সুমন সরদার, মো. মুস্তাফিজুর রহমান রুমি, শাহরিয়ার আহমেদ, কে. এম. মাহমুদ হাসান, রবিউল আউয়াল, ইয়াকুব শেখ অনিক, শাখায়তুল ইসলাম খান পরাগ, রাশেদ আমিন, আমিনুল ইসলাম, ইয়াসির আরাফাতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং হল শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশ শেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল রাজনৈতিক চর্চা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাবেন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে তাদের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।