মুগদায় আন্তর্জাতিক শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস ও বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন
মাসুদ মাহাতাব, ঢাকা
আন্তর্জাতিক শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস ও বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর মুগদায় সিড ফাউন্ডেশন ও এসো সচেতন হই সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশু শ্রম প্রতিরোধ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় শিশু, অভিভাবক, স্বেচ্ছাসেবী, সমাজকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি মুগদার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা শিশু শ্রম বন্ধ, শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পরিবেশ রক্ষার পক্ষে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তাসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন বহন করেন।
পরে শিশুদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা। এতে শিশুরা শিশু শ্রমমুক্ত সমাজ, নিরাপদ শৈশব এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে তাদের চিন্তা, স্বপ্ন ও প্রত্যাশা রঙ-তুলির মাধ্যমে তুলে ধরে। একইসঙ্গে আয়োজন করা হয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রতিযোগিতা শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা শিশু শ্রমের নেতিবাচক প্রভাব, শিশুদের শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জনাব আরিফুল ইসলাম। এসো সচেতন হই সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, সার্টিফাইড মেন্টাল হেলথ কাউন্সিলর, জনস্বাস্থ্য পেশাজীবী সমাজকর্মী মোঃ মাজহারুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গ্রামার হাই স্কুলের চেয়ারম্যান জনাব ,শামসুজ্জামান বাদল এবং উভয় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবী, সমাজকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
বক্তারা বলেন, “শিশু শ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গঠন এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুস্থ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।” তারা শিশুদের শিক্ষা, সুরক্ষা ও বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশুদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা বিস্তার, শিশু শ্রম প্রতিরোধ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।