বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়

ঢাকার ধামরাই এ ৪ দশকের অপেক্ষা ৩০০ কোটির অসমাপ্ত হাসপাতাল এখন বিষাক্ত সাপের অভয়ারণ্য

অনলাইন ডেস্ক ১৮ June ২০২৬ · Thursday · ১০:৩১ অপরাহ্ণ
ঢাকার ধামরাই এ ৪ দশকের অপেক্ষা ৩০০ কোটির অসমাপ্ত হাসপাতাল এখন বিষাক্ত সাপের অভয়ারণ্য

 

ঢাকা জেলা প্রতিনিধি :

নারয়ন সরকার (সবুজ) 

 

ঢাকার ধামরাই ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর সীমান্তবর্তী পাইকপাড়া ও ওয়ার্শী নামক দুই গ্রামের প্রায় ১৬ একর জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এক বিশাল অসমাপ্ত হাসপাতাল কমপ্লেক্স। ১৯৮৫ সালে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে শুরু হয়েছিল 'ইউনুস খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল'-এর নির্মাণকাজ। কিন্তু দীর্ঘ ৪১ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই স্বপ্নের প্রকল্প।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশিষ্ট শিল্পপতি খান মোহাম্মদ ইকবালের বাবা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বাবাকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাকে বিভিন্ন দেশে ঘুরতে হয়েছিল। সেই কষ্ট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে তিনি এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

​টানা ২০ বছর ধরে বিপুল অর্থ বিনিয়োগে হাসপাতালটির মূল ভবন, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হোস্টেল, দৃষ্টিনন্দন মসজিদ এবং পুকুরসহ প্রায় ৮০ শতাংশ অবকাঠামোর কাজ সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের কারণে কাজের গতি কমে যায়। সর্বশেষ ২০১৭ সালে মূল উদ্যোক্তা শিল্পপতি খান মোহাম্মদ ইকবালের মৃত্যুর পর পুরো প্রকল্পটি পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়ে।

​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল এই হাসপাতাল কমপ্লেক্সটির চারপাশ এখন ঘন বন-জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। দিনের বেলাতেই এখানে গা ছমছমে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দেখভালের অভাব এবং দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত অবস্থার কারণে এই ভবনটি এখন স্থানীয় মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাস্থল এবং বিষাক্ত সাপের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত সম্পদ এভাবে নষ্ট হতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী।

জহির আহমেদ পাপন, মেডিকেল শিক্ষার্থী বলেন,​"৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ হাসপাতালটি সম্পূর্ণ হলে ঢাকা, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর —এই চার জেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হতো। এখন তো এখানে যে বিপুল বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা কোনো কাজেই আসছে না।"

​প্রতিষ্ঠানটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইকবাল আহমেদ ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, “আমাদের মূল উদ্যোক্তার মৃত্যুর পর কাজ সচল করা সম্ভব হয়নি। তবে মালিকপক্ষ এখনো জনগণের সেবায় হাসপাতালটি চালু করতে অত্যন্ত আগ্রহী। সরকার বা কোনো বড় প্রতিষ্ঠান যদি যৌথ অংশীদারিত্বে (PPP) এটি চালুর উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসে, তবে মালিকপক্ষ সব ধরনের সহযোগিতা করতে রাজি আছে।”

স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী অনীকসহ ধামরাই ও মির্জাপুরের সাধারণ মানুষের দাবি, এই বিশাল অবকাঠামোটি এভাবে ফেলে রাখা জাতীয় সম্পদের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি চালু হলে শুধু ধামরাই নয়, আশেপাশের কয়েকটি উপজেলার লাখ লাখ মানুষ ঢাকার যানজট এড়িয়ে ঘরের কাছেই উন্নত চিকিৎসা পেতেন।

​এদিকে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আল মামুন জানিয়েছেন, চৌহাট ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের এই প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন আন্তরিক। তিনি বলেন, “একজন ব্যক্তির মহৎ উদ্যোগে এই বিশাল প্রকল্প শুরু হয়েছিল। উদ্যোক্তার মৃত্যুর পর এটি থমকে গেছে। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয় এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করেছি। হাসপাতালটি যাতে দ্রুত সচল করা যায়, সে বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা ও কাজ চলছে।”

​এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সব আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে জনস্বার্থে সরকার দ্রুত এই হাসপাতালটি অধিগ্রহণ অথবা যৌথ ব্যবস্থাপনায় সচল করার কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন

খাল পুনঃখনন শেষে অব্যবহৃত প্রায় ২০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও

খাল পুনঃখনন শেষে অব্যবহৃত প্রায় ২০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও

মো: আল-মাহফুজ শাওন :প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সততা এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে দায়িত্বশীলতার এক অন...

২৯ July ২০২৬ · Wednesday · ০৮:৫৩ অপরাহ্ণ