বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ

ইবি শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল

Admin ১৯ June ২০২৬ · Friday · ০২:৪২ অপরাহ্ণ
ইবি শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল
ইবি শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল

বিশ্বকাপ মানেই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফুটবল উৎসব। চার বছর পরপর কোটি কোটি মানুষ একসাথে আনন্দ, উত্তেজনা আর আবেগে মেতে ওঠে। এটা শুধু খেলা নয়—এখানে থাকে স্মৃতি, স্বপ্ন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর এক অদ্ভুত ঐক্য। কেউ বন্ধুদের সাথে তর্ক করে, কেউ প্রিয় দলের পতাকা উড়ায় ,আবার  কেউ  প্রিয় দলের  বিশাল পতাকা নিয়ে করে মিছিল। বিশ্বকাপ আমাদের শেখায়—
জয় সবকিছু নয়, লড়াইটাও গুরুত্বপূর্ণ। ছোট দলও বড় ইতিহাস গড়তে পারে। ফুটবল মানুষকে ভাষা-দেশের সীমা ছাড়িয়ে এক করে। কখনো এক গোল আনন্দে ভাসায়, কখনো হার মন খারাপ করায়—তবুও পরের বিশ্বকাপের অপেক্ষা থামে না। বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায়, কিন্তু বিশ্বকাপের স্মৃতি থেকে যায় বহুদিন। মাত্র কয়েকদিন আগেই শুরু হলো বিশ্বকাপ, চলছে খেলা দেখার মহড়া, আর বিরাজমান টানটান উত্তেজনাময় পরিবেশ। বিশ্বকাপ ঘিরে ফুটবলপ্রেমী  শিক্ষার্থীদের মধ্য কয়েকজনের  ভাবনা, স্মৃতি ও মতামত তুলে ধরছি  আমি নওশিন শারমিলি, শিক্ষার্থী, আল ফিকহ এন্ড ল  বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

বিশ্বকাপের স্মৃতিতে বাংলাদেশ

বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ একটি আবেগপ্রবণ জাতি। প্রতি চার বছর পরপর ফুটবল বিশ্বকাপ এ আবেগকে আরও গভীর করে তোলে, যার রেশ চলমান থাকে পরবর্তী বছরগুলোতেও। বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশি মানুষ আর ফুটবল যেন মিশে একাকার হয়ে ওঠে। আমাদের গ্রামেই ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এক সন্তানের নাম রাখা হয়েছিল ‘ব্রাজিল’। সেই ছেলেটি আজও তার শিক্ষাজীবনে মো. ব্রাজিল হোসেন নামটিই বহন করে চলেছে। তাছাড়া গ্রামের প্রতিটি পরিবারে জন্ম নেওয়া সন্তান বড় হওয়ার আগেই তাকে কোন দলের সমর্থক বানানো হবে, তা নিয়ে চলে তর্ক-বিতর্ক আর খুনসুটি। পাড়ায় পাড়ায় গড়ে ওঠে পছন্দের দলের আলাদা সমর্থকগোষ্ঠী। তাদের মধ্যে প্রিয় দলের ইতিহাস, খেলোয়াড় ও পরিসংখ্যান নিয়ে চলে প্রাণবন্ত আলোচনা ও যুক্তিতর্ক। কিছুদিন পরপরই ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এমনকি এই দুই দলকে কেন্দ্র করে অন্যান্য খেলাধুলার আয়োজনও দেখা যায়। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই এর উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে। আকাশে-বাতাসে উড়তে শুরু করে প্রিয় দেশের জাতীয় পতাকা। কার পতাকা কত বড়, কে কত আগে টাঙিয়েছে এসব নিয়েও চলে প্রতিযোগিতা। বিশ্বকাপ শুরু হলে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে খেলা দেখার আয়োজন করা হয়। সব দলের সমর্থকরা মিলেমিশে সেই আয়োজন সফল করে তোলে। নিজের দলের জার্সি পরে ঘুরে বেড়ানো, কিংবা প্রিয়জনকে জার্সি উপহার দেওয়া যেন বিশ্বকাপের প্রতি বাংলাদেশিদের আবেগেরই বহিঃপ্রকাশ। খেলা শেষে জয়-পরাজয়ের তর্ক থেমে গেলেও বিশ্বকাপ ঘিরে তৈরি হওয়া এসব স্মৃতি ও আনন্দ আমাদের হৃদয়ে বহুদিন বেঁচে থাকে।

মাশরুর রহমান  শিপন 
শিকষার্থী, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান  বিভাগ

ফুটবলের নান্দনিকতা সবকিছুর উর্ধ্বে

ফুটবল বিশ্বকাপ আমার কাছে শুধু একটি খেলা নয়, এটি আনন্দ, উত্তেজনা এবং বন্ধুদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর একটি উপলক্ষ। বিশ্বকাপ চলাকালে আমি সাধারণত আমার বন্ধুদের সঙ্গে বসে খেলা দেখি। সবাই মিলে খেলা দেখা এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো উপভোগ করার মধ্যে আলাদা এক আনন্দ আছে। আমি ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের সমর্থক। কেন ব্রাজিলকে সমর্থন করি, তার নির্দিষ্ট কোনো কারণ আমার জানা নেই। সত্যি বলতে, ছোটবেলায় ফুটবল সম্পর্কে কোন কিছু না বুঝেই ব্রাজিলকে সমর্থন করা শুরু করেছিলাম, আর সেই সমর্থন আজও রয়ে গেছে। ব্রাজিলের আক্রমণাত্মক ও নান্দনিক ফুটবল দেখতে আমার ভালো লাগে। তবে ব্রাজিলের সমর্থক হলেও আমি লিওনেল মেসির খেলার বড় ভক্ত। একজন ফুটবলার হিসেবে তার দক্ষতা, পরিশ্রম এবং মাঠের পারফরম্যান্স আমাকে মুগ্ধ করে। তাই অন্য দলের খেলোয়াড় ভালো খেললে তার প্রশংসা করতে আমার কোনো আপত্তি হয় না। আমি নিজেকে উগ্র সমর্থক মনে করি না। খেলা নিয়ে কখনো কারও সঙ্গে তর্কে জড়াই না এবং এই খেলা নিয়ে কেউ তর্ক করুক সেটাও আমি চাই না। আমার বিশ্বাস, খেলাধুলার মূল উদ্দেশ্য হলো বিনোদন, বিভেদ সৃষ্টি করা নয়। তবে একজন সমর্থক হিসেবে কখনো কখনো প্রিয় দলের পরাজয়ে মন খারাপ হয় বা হতাশা কাজ করে। আবার অতিরিক্ত প্রত্যাশার কারণে কিছু ম্যাচের ফলাফল মেনে নেওয়াও কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি মনে করি, ফুটবল একটি খেলা, যেখানে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক বিষয়। তাই খেলাকে খেলা হিসেবে উপভোগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আমানুর রাইয়্যান
শিক্ষার্থী, আল ফিকহ এন্ড ল বিভাগ।

ক্রীড়াপ্রেমীদের হৃদস্পন্দন: বিশ্বকাপ ও আমাদের অন্তহীন আবেগ

'বিশ্বকাপ' শব্দটার মাঝেই লুকিয়ে আছে এক জাদুকরী আকর্ষণ। চার বছর পর পর যখন এই মহারণ ফিরে আসে, তখন পুরো বিশ্বের মতো আমাদের এই বাংলাও মেতে ওঠে এক পঙক্তিহীন উৎসবে। মাঠের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বকাপ রূপ নেয় এক বৈশ্বিক পার্বণে, যা ছুঁয়ে যায় প্রতিটি বাঙালির হৃদয়। বিশ্বকাপ শুরু হওয়া মানেই চারপাশের চেনা পরিবেশটা রাতারাতি বদলে যাওয়া। পাড়ার মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানে ঝড় ওঠে চায়ের কাপে, চলে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে বারান্দায় পতপত করে উড়তে থাকে প্রিয় দলের পতাকা। গভীর রাতে বন্ধুদের সাথে জড়ো হওয়া, বড় পর্দায় খেলা দেখা আর প্রতিটি মুহূর্তে মহল্লার সবাই একসাথে চিৎকার করে ওঠা—এই উন্মাদনা আমাদের যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলিয়ে এক সুতোয় গেঁথে দেয়। এই উৎসবের সাথে জড়িয়ে থাকে অজস্র স্মৃতি। শৈশব বা কৈশোরের কোনো না কোনো বিশ্বকাপের স্মৃতি আমাদের মনে আজীবন রঙিন হয়ে থাকে। বাবার সাথে রাত জেগে প্রথম খেলা দেখা, প্রিয় দলের জার্সি গায়ে দিয়ে ঘুরে বেড়ানো, কিংবা প্রিয় দল হেরে যাওয়ার পর লুকিয়ে কাঁদার সেই নস্টালজিয়া কখনো পুরোনো হয় না।
বিশ্বকাপে সবার পছন্দের দল এক হয় না। তবে আমার ক্ষেত্রে আকাশী-নীল জার্সির আবেদন চিরকালই অন্যরকম। মারাদোনা থেকে শুরু করে মেসির জাদুকরী পাসিং, ড্রিবলিং আর লড়াকু মানসিকতা আমার হৃদয়ে এক টুকরো নীড় তৈরি করেছে। দল যেটাই হোক, প্রিয় দলের প্রতি এই নিঃশর্ত ভালোবাসাই খেলার আসল সার্থকতা। সীমানা পেরিয়ে কোটি মানুষকে এক করাই বিশ্বকাপের আসল জাদু।      

আসফিয়া কানিজ ফাতেমা 
শিক্ষার্থী, হিউম্যান রিসোর্স  ম্যানেজমেন্ট বিভাগ।

আমার বিশ্বকাপ পাগলামি

আমার কাছে ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই এক অদ্ভুত ছেলেমানুষি, আর কলিজার ভেতর আকাশী-সাদা রঙের এক টুকরো খাঁটি আবেগ। সত্যি বলতে, ছোটবেলায় যখন ফুটবল খেলার অতশত নিয়মকানুন বুঝতাম না, তখন স্রেফ ওই মায়াবী আকাশী, আর সাদা রঙের জার্সিটা সুন্দর লেগেছিল বলেই আর্জেন্টিনার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। তারপর যত দিন গেছে, খেলার ব্যাকরণ বুঝেছি, আর সেই জার্সির সাথে জড়িয়ে থাকা দলটা, আর লিওনেল মেসি কখন যেনো এক পরম আবেগের জায়গা হয়ে উঠেছেন। হ্যা—আমি আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করি, আর মেসি তো আমার কৈশোর থেকে আজ অবধি টিকে থাকা এক চিরন্তন ভালোবাসা। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপটা আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়। তখন আমার এইচএসসি পরীক্ষা চলছিল। একদিকে পরীক্ষার ভয়ংকর চাপ, অন্যদিকে প্রিয় দলের ডু-অর-ডাই ম্যাচ! এক মুহূর্তের জন্যও খেলা মিস করতে চাইনি। তাই পুরো রাত জেগে আর্জেন্টিনার খেলা দেখতাম, আর সকাল হতেই চোখে ঘুম নিয়ে ছুটে যেতাম পরীক্ষা কেন্দ্রে। হলের বাকি পরীক্ষার্থী, আর বন্ধুদের সাথে পরীক্ষার আগে-পরে চলতো তুমুল ফুটবল আড্ডা। পড়ালেখা আর ফুটবলের সেই রোমাঞ্চকর দিনগুলো আজও চোখে ভাসে। মেসির হাতে যখন সেই সোনালী ট্রফিটা উঠলো, মনে হচ্ছিলো আমার নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্নটা সত্যি হয়েছে। আমরা জয়ের পর সবাই মিলে এক বিশাল উৎসব, বিজয় মিছিল, আর মহা ভোজের আয়োজন করেছিলাম। পাড়ার সেই আনন্দ, সেই খাবারের স্বাদ, সবার সেই প্রানভরা উচ্ছ্বাস আর উন্মাদনা  আমি কোনোদিন ভুলবো না। কলেজ থেকে ইউনিভার্সিটি, শুধু পরিবেশটাই বদলিয়েছে, কিন্তু সেই  পাগলামিটা একটুও বদলায়নি। বরং, বন্ধুদের সাথে যুক্ত হয়ে সেই উন্মাদনা এখন আরও দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে না হতেই আমাদের ক্যাম্পাসে রীতিমতো আর্জেন্টিনার এক 'মেস' বা মেলা বসে গেছে। এবারের শুরুটা যেমন রাজকীয় জয় দিয়ে হয়েছে, শেষটাও ঠিক তেমনই হবে। বিশ্বাস আছে—বিজয়োল্লাসের এই ধারা বজায় রেখে কাপটা এবারও আমাদের ঘরেই আসবে।

জিন্নাত আলভী 
শিক্ষার্থী, গনিত বিভাগ।

বিশ্বকাপ ফুটবল : জীবনে এক আনন্দের জোয়ার

গত ১১ই জুন, ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ, অর্থাৎ ফুটবলের সব থেকে বড় আসর ফিফা ওয়ার্ল্ডকাপ। ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই যেন চারপাশের পরিবেশ বদলে যায়। বিশ্বকাপ-২০২৬ নিয়েও মানুষের মধ্যে একই রকম উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। প্রিয় দলের খেলা দেখার অপেক্ষা, খেলোয়াড়দের নিয়ে আলোচনা, জয়-পরাজয়ের হিসাব৷ সবকিছু মিলিয়ে এটি এক অন্যরকম অনুভূতি। বিশ্বকাপের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো সবাই মিলে খেলা দেখা। পরিবার, বন্ধু, কিংবা হলের বন্ধু, বড়ভাই, ছোট ভাইদের  সঙ্গে  ম্যাচ দেখার আনন্দ আলাদা। খেলার সময় উত্তেজনায় কেউ চিৎকার করে ওঠে, কেউ প্রার্থনা করে, আবার গোল হলে সবাই একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠে। সেই মুহূর্তগুলো শুধু খেলার নয়, স্মৃতিরও এক অনবদ্য অংশ হয়ে থাকে। আমাদের দেশে বিশ্বকাপ মানেই আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পর্তুগাল, স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দলের সমর্থকদের উৎসব। পাড়ায় পাড়ায় পতাকা উড়ে, জার্সি পরে মানুষ নিজেদের ভালোবাসার দলকে সমর্থন জানায়। খেলা শেষে বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা, মজা, আর তর্ক বিশ্বকাপের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
ফুটবল বিশ্বকাপ তাই শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, এটি আবেগের, অনুভূতির এবং মানুষে মানুষে সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি উপলক্ষ। খেলার ফল যাই হোক, একসঙ্গে বসে সেই মুহূর্তগুলো উপভোগ করার আনন্দই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য।

মো: হাবিবুর রহমান জিহাদ
শিক্ষার্থী, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগ।

বিশ্বকাপ ফুটবল : আবেগ-উন্মাদনায় আমি ও আমার আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি কোটি মানুষের আবেগ, স্বপ্ন, আনন্দ ও ঐক্যের এক মহামিলন। চার বছর পরপর যখন বিশ্বকাপের বাঁশি বেজে ওঠে, তখন যেন পুরো পৃথিবী একটি পরিবারের মতো হয়ে যায়। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপও তার ব্যতিক্রম নয়। অলিতে-গলিতে উড়ছে বিভিন্ন দেশের পতাকা, তরুণদের গায়ে প্রিয় দলের জার্সি, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বড় পর্দার সামনে—সবখানেই ফুটবল নিয়ে আলোচনা, আর চলছে মানুষের মধ্যে এক উত্তেজনার ঝড়-কে জিতবে, কে হারবে, কোন দল চ্যাম্পিয়ন হবে—এসব নিয়ে চলছে নিরন্তর আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা। আমার কাছে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতি আজও সবচেয়ে উজ্জ্বল ও অবিস্মরণীয়। জুলাই ৩৬ হলের বড় পর্দায় অসংখ্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে বসে খেলা দেখার মুহূর্তগুলো ছিল সত্যিই অসাধারণ। নভেম্বর-ডিসেম্বরের কনকনে শীত, শিশিরভেজা ঘাস, তার ওপর বিছানো কার্পেট, গায়ে জড়ানো কম্বল, আর বড় পর্দার সামনে বন্ধুদের সঙ্গে বসে খেলা দেখার আনন্দ—এসব আজও আমার হৃদয়ে জীবন্ত হয়ে আছে। প্রতিটি গোল, প্রতিটি আক্রমণ ও প্রতিটি উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে হৃদস্পন্দন যেন বেড়ে যেত কয়েক গুণ। আমি ব্যক্তিগতভাবে আর্জেন্টিনার সমর্থক। এর অন্যতম কারণ লিওনেল মেসি। কারন মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন; তিনি একটি আবেগ, একটি অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার সাফল্য আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। তাই এবারের বিশ্বকাপেও আমার প্রত্যাশা, নীল-সাদা জার্সিধারীরা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সেরাটা উপহার দেবে এবং সাফল্যের নতু ইতিহাস রচনা করবে। সবশেষে, আমার কামনা—ফুটবল আমাদের মাঝে ছড়িয়ে দিক ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও আনন্দের বার্তা। বিশ্বকাপ হোক শুধু প্রতিযোগিতার নয়, বরং বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয়কে এক সুতোয় গাঁথার উপলক্ষ।

রুবাইয়া রুবি
শিক্ষার্থী, আল ফিকহ এন্ড ল বিভাগ।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন

বটিয়াঘাটায় পরিত্যক্ত ঘর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় মেলেনি এখনও

বটিয়াঘাটায় পরিত্যক্ত ঘর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় মেলেনি এখনও

মো: আল-মাহফুজ শাওন:খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্...

২২ July ২০২৬ · Wednesday · ০৯:৩৯ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় খুলনার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে নাগরিক ফোরামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় খুলনার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে নাগরিক ফোরামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

মো: আল-মাহফুজ শাওন: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নগরীর সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তন...

২২ July ২০২৬ · Wednesday · ০৯:৩৭ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে পৌরসভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ছড়াচ্ছে নানা ধরনের রোগব্যাধি, পৌরবাসির বিক্ষোভ

কালিয়াকৈরে পৌরসভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ছড়াচ্ছে নানা ধরনের রোগব্যাধি, পৌরবাসির বিক্ষোভ

কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃগাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার ৫ নং হরতকিতলা আমতলা মোড়,বাদশা হাউ...

২২ July ২০২৬ · Wednesday · ০৯:৩৪ অপরাহ্ণ