ধরাছোঁয়ার বাইরে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা, উদ্ধার হচ্ছে না অবৈধ অস্ত্র
মো: আল-মাহফুজ শাওন, খুলনা:
খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম জোরদার হলেও নগরীর আলোচিত সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর খুলনার বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী আত্মগোপনে চলে যায়। অনেকে সীমান্ত পেরিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছে বলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা। তবে তাদের অনুসারী ও সহযোগীদের একটি অংশ এখনো সক্রিয় রয়েছে। এ কারণে অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যমতে, গত কয়েক বছরে খুলনা মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষের ওপর হামলার জন্য বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে। এসব অস্ত্রের অনেকগুলো এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছেন মেহেদী বাহাদুর, আলমগীর, নূর আজিম, সাদ্দাম শেখ, টার্গেট শাওনসহ আরও কয়েকজন। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার অনেক আসামিই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
খুলনা মহানগর পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত কয়েক মাসে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অন্তত ১০টি সন্ত্রাসী গ্রুপের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে একাধিক শীর্ষ ও মধ্যম সারির সন্ত্রাসীকে। কিন্তু তাদের ব্যবহৃত অধিকাংশ আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্রগুলো বিভিন্ন গোপন আস্তানা, নদী তীরবর্তী এলাকা, পরিত্যক্ত স্থাপনা এবং সহযোগীদের হেফাজতে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, “শুধু সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, তাদের অস্ত্রের ভাণ্ডারও খুঁজে বের করতে হবে। কারণ অস্ত্রগুলো উদ্ধার না হলে নতুন করে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।”
খুলনার বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, অনেক সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হলেও অস্ত্র উদ্ধারের অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। ফলে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও অন্তর্নিহিত ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সন্ত্রাস দমনে স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু অভিযান নয়, অস্ত্রের উৎস চিহ্নিত করা, সরবরাহ চক্র ভেঙে দেওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা জরুরি। একই সঙ্গে পলাতক সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পলাতক সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
খুলনাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে তাদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হবে। এতে নগরীতে স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।