নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি পবিত্র সরকার আটক
দখলবিরোধী মামলার জেরে ফাঁসানোর অভিযোগ
মো:আল মাহফুজ-শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক | খুলনা:
খুলনার বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি-এর প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি পবিত্র কুমার সরকার-কে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। গত ৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টায় নগরীর হরিণটানা থানার রাজবাঁধ এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
পরদিন ৫ এপ্রিল মহিলা দল নেত্রী ফাতেমা-তুজ-জোহরা লিন্ডা দায়ের করা একটি ভাংচুর মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং পরে কারাগারে পাঠানো হয়।
📌 পরিবারের অভিযোগ
পবিত্র সরকারের পরিবার দাবি করেছে, ভাংচুরের মতো ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ‘হাস্যকর’। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় দখল নিয়ে চলমান বিরোধের জেরেই তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়টি দখল হওয়ার পর পবিত্র সরকার দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং আদালত তার পক্ষে রায় দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে এই মামলায় জড়িয়েছে।
পবিত্র সরকারের স্ত্রী বিউটি মন্ডল বলেন,
“রাতে বাসায় ঢুকে ডিবি তাকে তুলে নিয়ে যায়। আচরণ দেখে মনে হয়েছে বড় কোনো অপরাধীকে ধরছে। পরে জানতে পারি ভাংচুর মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অজ্ঞাত নম্বর থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
⚖️ বিশ্ববিদ্যালয় দখল নিয়ে বিরোধ
জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর খুলনার প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি। শুরুতে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন তালুকদার আবদুল খালেক।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর ট্রাস্টি বোর্ডে পরিবর্তন আসে। ২০২৫ সালের মে মাসে মিজানুর রহমান নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন, যদিও তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এ বিষয়ে আদালতে মামলা করেন পবিত্র সরকার। গত ১৩ জানুয়ারি খুলনার সদর সিনিয়র সহকারী জজ মো. রাশিদুল আলম রায়ে মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের অবৈধ ঘোষণা করেন। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে, যার শুনানি আগামী ১৬ এপ্রিল।
👮 পুলিশের বক্তব্য
খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক তৈমুর ইসলাম জানান,
“তিনি আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য এবং ভাংচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
❗ ভিন্নমত
তবে পবিত্র সরকারের স্ত্রী দাবি করেন, তার স্বামী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন এবং দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে তাকে কখনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে দেখেননি।
📌 এ ঘটনায় খুলনার শিক্ষা অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।