বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ

নাটোরে লালপুরে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকার খাল পুনঃখনন প্রকল্প পরিদর্শন, কৃষি ও মৎস্য খাতে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

অনলাইন ডেস্ক ২২ June ২০২৬ · Monday · ১০:০৫ অপরাহ্ণ
নাটোরে লালপুরে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকার খাল পুনঃখনন প্রকল্প পরিদর্শন, কৃষি ও মৎস্য খাতে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

 

আরিফুল ইসলাম, নাটোর প্রতিনিধি:

নাটোরের লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া ইউনিয়নে চলমান খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত এ প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘদিনের ভরাট হয়ে যাওয়া খাল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবীর হোসেন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং খাল দখলমুক্ত রাখতে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন।

জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে ওয়ালিয়া ব্রিজ থেকে খলিসাডাঙ্গা অভিমুখে প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন এবং আড়বাব ইউনিয়নের চন্দনা খাল পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষি ও মৎস্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিদর্শনকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবীর হোসেনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেদী জাহান, উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহ আলমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। তারা খালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের গুণগত মান, খননের গভীরতা, প্রস্থ এবং পানি প্রবাহের সক্ষমতা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবীর হোসেন বলেন, “সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত এই প্রকল্পের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমরা সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন করে সন্তুষ্ট হয়েছি। এখন পর্যন্ত কাজের মধ্যে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ভবিষ্যতে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “খালগুলো একসময় এ অঞ্চলের কৃষি ও জীবিকার অন্যতম ভিত্তি ছিল। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় অনেক জায়গায় খাল ভরাট হয়ে গেছে, পানি প্রবাহ কমে গেছে এবং কৃষকরা সেচ সংকটে পড়েছেন। পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।”

খালের সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “খালের জায়গা জনগণের সম্পদ। যারা সরকারি খালের জমি দখল করে আছেন, তারা দ্রুত স্বেচ্ছায় অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিন। খাল পুনরুদ্ধারে প্রশাসন কোনো ধরনের অনিয়ম বা দখলদারিত্ব মেনে নেবে না।”

স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে খাল ভরাট থাকায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিত এবং অনেক জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। আবার শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কৃষকরা সেচ সংকটে পড়তেন। ফলে ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ত। খাল পুনঃখনন শেষ হলে এ সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে তারা আশা করছেন।

ওয়ালিয়া ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক শাহিন আলম জানান, একসময় এই খাল দিয়ে সহজেই পানি প্রবাহিত হতো। কিন্তু বছরের পর বছর পলি জমে খালের গভীরতা কমে যাওয়ায় পানি ধারণক্ষমতা হ্রাস পায়। এতে কৃষিকাজের পাশাপাশি মাছ চাষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, খাল পুনঃখনন হলে এলাকার কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং প্রাকৃতিক পানি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে খালকে কেন্দ্র করে মৎস্য চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ অঞ্চলে খাল, বিল ও জলাশয় পুনরুদ্ধার শুধু কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নয়, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জলাধারগুলো সচল থাকলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল মনে করছেন, প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে লালপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের হাজারো কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সব মিলিয়ে ওয়ালিয়া ইউনিয়নের খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন

কিশোরগঞ্জে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ভেজাল খাদ্যপণ্য ধ্বংস

কিশোরগঞ্জে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ভেজাল খাদ্যপণ্য ধ্বংস

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় শাহাব উদ্দিন ফুড প্রডাক্টস নামক একটি প্রতিষ্ঠানে...

২৬ October ২০২৬ · Monday · ০২:৫৪ অপরাহ্ণ
মারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুল ইসলামের নির্বাচনি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুল ইসলামের নির্বাচনি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের বিন্নাগ...

২৫ October ২০২৬ · Sunday · ০৫:২৫ অপরাহ্ণ
ছোট ভাই আলমগীরই হত্যা করায় বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরকে,সংবাদ সম্মেলনে দাবি নিহতের স্ত্রীর

ছোট ভাই আলমগীরই হত্যা করায় বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরকে,সংবাদ সম্মেলনে দাবি নিহতের স্ত্রীর

বিজয় কর রতন,কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আল...

২৪ October ২০২৬ · Saturday · ০৯:০০ অপরাহ্ণ
মিঠামইনে বিএনপির সভাপতি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা

মিঠামইনে বিএনপির সভাপতি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা

বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বিএনপির সভাপতি এডভোকেট জাহি...

২৪ October ২০২৬ · Saturday · ০৮:০৫ অপরাহ্ণ