“ আমার জীবনের সবচেয়ে সেরা উপহার তুমি বাবা ”
শৈশব থেকে জীবনের শেষ দিন অবধি বাবা এমন এক ভরসার নাম যেখানে প্রতিটা সন্তান নিজেকে নিরাপদ মনে করে। জীবনে চলার পথে অজস্র সংকট, সংগ্রাম ও প্রতিকূলতা আসুক না কেনো বাবা সাহসিকতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করে। বাবাই বটবৃক্ষ হয়ে সন্তানদের ছাঁয়া দেয়। সন্তানদের কোন সংকট বুঝতে দেয় না। তার চোখে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা আকাঙ্ক্ষার শেষ নেই। বাবা তিলে তিলে তার জীবনের সর্বোচ্চ সময়, প্রচেষ্ঠা ও সম্পদ ব্যয় করতে পিছুপা হয় না তার সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য। একজন বাবাই জানে তার সন্তানকে তার সফলতার সর্বোচ্চ শিঁখরে পৌঁছে দিতে তার কতখানি ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। বাবাই সেই মানুষ যিনি সন্তানকে জেতাতে গিয়ে উনি বারবার হেরে যান কিন্তু তিনি কখনও হাল ছেড়ে দেন না কারণ প্রতিটি বাবাই তার জীবনের সর্বস্ব দিয়ে তার সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে মরিয়া হয়ে যায় ।
বাবা হয়তো অনেকসময় মায়ের মতো প্রকাশ করে না সবকিছু কিন্তু তার ভালোবাসা সবচেয়ে গভীর। কারণ সন্তানের প্রয়োজনে তিনি তার নিজের প্রয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ দেন না বরং সন্তানের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে।
ছোটবেলায় বাবার শাসন খুব কঠোর মনে হতো। তার বকা দেওয়া ও নিষেধের বেড়াজাল বড়োই অপ্রিয় লাগতো। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আজ বুঝতে পারি তার সমস্ত শাসন এর পিছনেই লুকিয়ে ছিলো গভীর মমতা, দায়িত্ববোধ এবং আমাকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার এক নীরব প্রচেষ্টা।
আমার জীবনের প্রথম শিক্ষক হিসেবে বাবার ভূমিকা অপরিসীম। আমার বাবা শিখিয়েছেন কিভাবে সততা, পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, মানবিক ও আদর্শিক গুণাবলি নিয়ে কিভাবে একজন ভালো মানুষ হতে হয়। আমার বাবা শিখিয়েছেন কিভাবে মানবতার কল্যাণে কিভাবে নিজেকে নিয়োজিত রাখা যায়। আমার জীবনে সিংহভাগ বাস্তবজ্ঞান আমি পেয়েছি আমার বটবৃক্ষ বাবার কাছ থেকে।
সেই শৈশব থেকে দেখে আসছি আমাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য উনার ব্যক্তিগত স্বপ্ন, ইচ্ছা, শখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন।
সবসময় বাবাকে বলতে শুনেছি তোদের জন্য শেষ সম্বলটুকু আমি শেষ করতে রাজি। এভাবেই সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য কতো কষ্ট বাবা নীরবে সহ্য করে যাচ্ছেন।
সন্তান বয়সে যত বড় হোক না কেন সন্তানের শৈশব, কৈশোর, শিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাবা এত বেশি অবদান রাখেন যা বলে শেষ করা সম্ভব নয়। তাই বাবাই প্রতিটা সন্তানের সাফল্যের পেছনের এক অদৃশ্য শক্তি।
তাই শৈশবে বাবার শাসন, আদেশ, নিষেধ ও কঠোর মনোভাবের অর্থ না বুঝলেও আজকে পরিনত বয়সে অনুভব করতে পারছি যে সেগুলোর প্রতিটাই ছিলো সন্তানের মঙ্গলের জন্য, আদর্শিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। এজন্য আজকের দিনে সন্তানের জন্য বাবার ত্যাগ ও সংগ্রামের গভীরতা উপলব্ধি করতে পারছি।
বাবা তোমার প্রতি ধন্যবাদ জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা এবং সুখকে বিসর্জন দিয়ে আমার ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য যেভাবে নীরবে আমার পাশে থেকেছো সেটা কোন শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা করা যায় না। আজকে আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি তার প্রতিটি ধাপে রয়েছে তোমার ঘাম, ত্যাগ, সংগ্রাম ও তোমার অপ্রকাশিত ভালোবাসা। তোমার প্রতিটা কষ্ট ও নিঃশব্দ সংগ্রাম আমার কাছে এক একটি অমূল্য ইতিহাস। বাবা তোমার এই স্বার্থহীন ভালোবাসার কাছে আমি চিরঋণী। তুমি শুধু আমার বাবা নও তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা এবং সবচেয়ে সেরা আশ্রয়। তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি বাবা।
তোমার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু আর শান্তিময় জীবনই আমার একমাত্র প্রার্থনা।
সবশেষে একটাই কথা বলবো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ আমার বাবা। বাবার মতো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ আর দায়িত্ববোধের নমুনা পৃথিবীতে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
শুধু বাবা দিবসের দিনটি নয় প্রতিটি দিনই তোমার জন্য হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা থাকবে। তুমি ভালো থেকো, সুস্থ থেকো এটাই আমার হৃদয়ের সবচেয়ে বড় চাওয়া।
শুভ বাবা দিবসে পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
লেখক: আসিফ আহাম্মেদ
বিভাগ: ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ
শিক্ষার্থী,ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়া।
জেলা: কুষ্টিয়া