প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের নামে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য পাচারের চেষ্টা, আটক ৩
মো: আল-মাহফুজ শাওন:
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পণ্য পাঠানোর নাম করে কোটি টাকার উচ্চ শুল্কের ভারতীয় বাণিজ্যিক পণ্য পাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— বেনাপোল কাস্টমস হাউসে কর্মরত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শ্রী ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী (৩৮), ট্রাকচালক মো. মহসিন আলী (৩৪) এবং হেলপার মো. জাহিদ হাসান (২১)।
সোমবার (২২ জুন) দিবাগত রাতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে বেনাপোল বাজার এলাকা থেকে ঢাকা মেট্রো-ট ২৪-৫৬২১ নম্বরের একটি ট্রাক আটক করে বিজিবি। ট্রাকটিতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস পাওয়া যায়।
বিজিবি সূত্র জানায়, কাস্টমস চেকপোস্টে যাত্রীদের কাছ থেকে জব্দ করা এবং বিভিন্ন অভিযানে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় পণ্য বেনাপোল কাস্টমস গোডাউনে সংরক্ষিত ছিল। একটি অসাধু চক্র এসব পণ্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঠানোর কথা বলে গোডাউন থেকে সরিয়ে পাচারের চেষ্টা করছিল বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়।
এ তথ্যের ভিত্তিতে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বেনাপোল দুর্গাপুর মোড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ট্রাকটি আটক করে বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হলে তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, উদ্ধারকৃত মালামালগুলো বেনাপোল কাস্টমস হাউসের গোডাউন থেকে অবৈধভাবে বের করে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল। তবে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বলেন, “বেনাপোল বিজিবি কোম্পানি সদরের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও বিভিন্ন প্রকার কসমেটিকস বোঝাই একটি ট্রাকসহ তিনজনকে আটক করেছে। উদ্ধারকৃত পণ্যের সঠিক হিসাব, সিজার মূল্য নির্ধারণ এবং আটক ব্যক্তিদের থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
উদ্ধার হওয়া পণ্যের পরিমাণ ও বাজারমূল্য নির্ধারণের কাজ শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং কাস্টমস হাউসের নিরাপত্তা ও পণ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।