মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ

মনিপুর বিটে ‘মিথ্যা মামলার বোঝা’,; বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক ২৪ June ২০২৬ · Wednesday · ০৪:৫৮ অপরাহ্ণ
মনিপুর বিটে ‘মিথ্যা মামলার বোঝা’,; বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:


গাজীপুরের মনিপুর বিট এলাকায় বন বিভাগের দায়ের করা মামলার ভারে অনেক সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বছরের পর বছর আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত তদন্ত ছাড়াই অনেক নিরীহ মানুষের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।


এমনই একজন ভুক্তভোগী হিসেবে নিজের পরিচয় দেন স্থানীয় ব্যবসায়ী শিপন মিয়া। তিনি অভিযোগ করেন, তার বনভূমিতে কোনো ঘরবাড়ি বা স্থাপনা নেই, এমনকি বনভূমি দখলের সঙ্গেও তিনি জড়িত নন। তারপরও তার নাম একাধিক মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, “আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। দিনের পর দিন আদালতে হাজিরা দিতে দিতে ব্যবসা ও পরিবার নিয়ে চরম সংকটে আছি। অনেক মামলার কোনো ভিত্তি নেই, তবুও আমাকে আসামি করা হয়েছে।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, মনিপুর বিট এলাকায় হাজার হাজার মামলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা বাস্তবতা যাচাই না করেই দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার কারণে বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করছে।


এদিকে মনিপুর বিট কর্মকর্তা মান্নান-এর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের জন্য বিট অফিসে গেলে অনেক সময় সহযোগিতা পান না। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বনভূমি দখল ও গাছ কাটার ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয়দের একাংশ আরও দাবি করেন, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে বনভূমির জায়গা বেচাকেনা ও দখলের ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে সেলিম ভূঁইয়া নামের এক ব্যক্তির নামও স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিট কর্মকর্তা মান্নানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, মনিপুর বিট এলাকায় দায়ের করা মামলাগুলো পুনঃতদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করা এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানি থেকে রক্ষা করা জরুরি। একই সঙ্গে বনভূমি দখল, গাছ নিধন ও অনিয়মের অভিযোগগুলোও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন