বকশীগঞ্জে কৃষকদের মুখে হাসি:৩ হাজার কৃষকের মাঝে উচ্চ ফলনশীল পাট বীজ বিতরণ
সামরুল হক, স্টাফ রিপোর্টার:
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এ বীজ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকার প্রায় ৩ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে উন্নত জাতের তোষা-৫২৪ পাট বীজ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাই। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম এবং উপ-সহকারী পাট কর্মকর্তা এ কে এম কামরুজ্জামান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি সম্প্রসারণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক-কৃষাণীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষকদের জন্য উন্নত মানের বীজ ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে তারা অধিক উৎপাদন করতে পারেন এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন। তিনি আরও বলেন, “ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এ ধরনের প্রণোদনা কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে তাদের উৎপাদন খরচ কমে এবং লাভের পরিমাণ বাড়ে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এই লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম বলেন, তোষা-৫২৪ জাতের পাট বীজ অত্যন্ত উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল। সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকরা এ বীজ থেকে অধিক ফলন পেতে পারবেন। তিনি কৃষকদের সময়মতো বপন, সঠিক সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দমনে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।
এদিকে উপ-সহকারী পাট কর্মকর্তা এ কে এম কামরুজ্জামান বলেন, পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল। এ ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। তাই পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহী করতে নিয়মিত এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বীজ পেয়ে কৃষকরা সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, বিনামূল্যে উন্নত জাতের বীজ পাওয়ায় তাদের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং ফলন বাড়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। এতে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসবে।
উল্লেখ্য, তোষা-৫২৪ জাতের পাট বীজ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ও উচ্চ ফলনশীল হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের প্রণোদনা কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে পাট উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের ‘সোনালি আঁশ’ খ্যাত পাট খাত নতুন করে গতি পাবে।