খুলনায় বেতার শিল্পীদের সংকট: পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচার ও বাজেট বরাদ্দের দাবি
মো: আল-মাহফুজ শাওন : খুলনা: পরীক্ষামূলক সম্প্রচারের নামে স্বল্প সময়ের অনুষ্ঠান প্রচার করায় বিপাকে পড়েছেন বেতার সংশ্লিষ্ট প্রায় ২ হাজার ৩০০ শিল্পী ও কলাকৌশলী। এতে তারা তাদের শিল্পসত্তা হারানোর পাশাপাশি মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে “খুলনা বেতার শিল্পী সারথী” নামের সংগঠন। সংগঠনের সদস্য সচিব এস এম ইকবাল হাসান তুহিন লিখিত বক্তব্যে শিল্পীদের বর্তমান সংকট চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ কাঙ্ক্ষিত বাজেট না থাকার অজুহাত দিচ্ছে। অথচ আঞ্চলিক পরিচালক, প্রকৌশলী, সহকারী পরিচালক ও বার্তা নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন। পরিকল্পিতভাবে অনুষ্ঠানমালা সংকুচিত করে শিল্পীদের উপেক্ষা করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দক্ষিণাঞ্চলের শিল্প-সংস্কৃতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখতে দ্রুত বেতার সংস্কার, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচার চালুর দাবি জানান।
এদিকে অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ ও ৬ আগস্টের ঘটনায় বাংলাদেশ বেতার, খুলনা কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়ের করা জিডিতে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয় এবং আর্কাইভসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে যায়।
১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করা এ বেতার কেন্দ্রের প্রথম দিনের সংগীত শিল্পী মাজেদ জাহাঙ্গীর বলেন, শিল্পীদের এমন দুরবস্থা আগে কখনও দেখা যায়নি। তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর গল্লামারিতে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় কেন্দ্রটি ধ্বংস হওয়ার পর প্রায় দুই বছর সম্প্রচার বন্ধ ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনার ২০ মাস পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচার শুরু না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম জাকি, সংগীত শিল্পী মাজেদ জাহাঙ্গীর, নাট্য শিল্পী শেখ সিরাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সুদীপন মোহাম্মদ, সুলতানা পারভীন, আবৃত্তিশিল্পী স্মৃতি রেখা বিশ্বাস, কাজল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বেতার কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে শিল্পীরা প্রত্যাশিত সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না।