জ্বালানি সংকটে খুলনায় খাল খনন বন্ধ, ১৪ স্কেভেটর অচল
মো: আল-মাহফুজ শাওন : খুলনা।
খুলনা: মধ্যপ্রাচ্যে টানা ৩৯ দিনের সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় খুলনায় খাল খনন কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ইরানের হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেলের স্বল্প আমদানির কারণে জেলায় খননকাজে ব্যবহৃত ১৪টি স্কেভেটর প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অচল রয়েছে।
জানা গেছে, জ্বালানি সংকটের কারণে উপজেলা পর্যায়ে ডিজেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সরকারিভাবে মূল্য অপরিবর্তিত থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে প্রতি ২০০ লিটারের ব্যারেল ডিজেলের দাম ২০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৭ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।
খাল খনন প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে। উপকূলীয় এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে খুলনা জেলায় ৭টি খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ৫ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপর রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি স্কেভেটর দিয়ে দৈনিক ১৫ ঘণ্টা কাজ পরিচালনায় প্রায় ২১০ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু মধ্য মার্চ থেকে জেলা সদরসহ বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া ও দাকোপ উপজেলায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ধারাবাহিকভাবে খনন কাজ চালিয়ে যেতে ব্যর্থ হচ্ছে।
ঈদের পর স্বল্প পরিমাণে ডিজেল সরবরাহ শুরু হলেও প্রতিটি স্কেভেটর দিয়ে মাত্র ১-২ ঘণ্টা কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে এপ্রিলের শুরু থেকেই খাল খনন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রয়েছে।
বিএডিসি (সেচ) খুলনা ইউনিটের উপসহকারী প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন জানান, খাল খনন কার্যক্রম সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
বর্ষা মৌসুমের আগে খাল খনন সম্পন্ন না হলে উপকূলীয় অঞ্চলে পানি সংরক্ষণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।