নিষিদ্ধ আ.লীগের ৭৫ নেতাকর্মীর নামে সন্ত্রাস দমন আইনে ভূয়া সংগঠনের নেতার মামলা
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও হামলার অভিযোগ এনে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৭৫ নেতাকর্মীর নামে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। গত সোমবার(২৯ জুন) রাতে সদর মডেল থানায় এ মামলা করেন শহরতলির সতাল এলাকার ইয়াসিনুর রহমান স্বাধীন (৩০)। তিনি নিজেকে কিশোরগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী গণজাগরণ দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে প্রচার করেন। তবে দলটির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, 'জাতীয়তাবাদী গণজাগরণ দল' নামে বিএনপির অনুমোদিত কোনো অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন নেই।
এ মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী কৃষিবিদ মশিউর রহমান হুমায়ুন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের দ্বিতীয় ছেলে রাসেল আহমেদ তুহিন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের জেলা শাখার সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন, সাধারণ
সম্পাদক ফয়েজ উমান খান,জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আল জুবায়েদ খান নিয়াজ সহ ৭৫ জনকে।এ মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ১০০-১৫০ জনকে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৬ জুন সকালে জেলা শহরের রথখলা এলাকায় আসামিরা তাদের লোকজনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হন। এরপর জনমনে ভীতি ছড়িয়ে দিয়ে নাশকতামূলক কাজের পরিকল্পনা করেন। তারা সরকারি ও রাষ্ট্রীয় কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালান। রথখলা এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তারা এলাকা ত্যাগ করেন।
জানা গেছে,এ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হামলার অভিযোগে ইতোমধ্যে একাধিক মামলার আসামি হয়েছেন। তারা সবাই গত প্রায় ২ বছর যাবত আত্মগোপনে। মামলার বাদী ইয়াসিনুর রহমান স্বাধীনের বাড়িও ঘটনাস্থলের প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্বে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বাধীন দাবি করেন, মিছিলের আগে মিছিলকারীরা গোপন বৈঠকগুলো করেছিলেন তাদের এলাকায়। তাই সংগঠনের নেতাদের পরামর্শে তিনিই মামলাটি করেছেন। যদিও মামলায় তাঁর সাংগঠনিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলা নথিভুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম ভুঞা বলেন, এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, জাতীয়তাবাদী গণজাগরণ দল নামে বিএনপির কোনো অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন নেই।
এদিকে, এই মামলার পর জেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে গ্রেপ্তার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।