পিতৃপরিচয়হীন শিশু মেরাজ,পাচ্ছে না মৌলিক অধিকার
আশরাফুল ইসলাম তুষার,কিশোরগঞ্জ:
৫ বছর বয়সী ছোট্ট শিশু মেরাজ।যে সময় তার ব্যাগ কাধে বই হাতে স্কুলে যাবার কথা ঠিক সেই সময় অভিভাবকহীন ভাবে উদ্ভাস্তু হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে রাস্তাঘাট ও বাজারে।নেই পিতৃপরিচয়।খোজ নেয় নাহ তার গর্ভধারিণী মা।তাই শিশুটি বঞ্চিত হচ্ছে তার মৌলিক অধিকার থেকে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাতে এমনই এতিম হতভাহা শিশু মেরাজের সাথে দেখা হয় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার করগাও ইউনিয়ন বাজারে।কেউ তাকে ৫-১০ টাকা দিলে সেটা দিয়ে কিছু কিনে খায়।নয়তো সারাদিন -রাত না খেয়েই থাকতে হয় তাকে।নেই রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাবার জায়গা।তাই রাস্তাঘাট ও বাজারের কোন এক কোনে পড়ে থাকে সারারাত।কোন জনপ্রিতিনিধিও নেই না এই শিশুটির খোজ।এমনই অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এলাকাবাসীর।
শিশু মেরাজ জানান,তার বাবার নাম জুয়েল।তবে তার বাবা ছোট বেলায় নাকি মারা গেছে।তার মা হালিমা অন্য জায়গায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ায় নেয় না তার খোজ।তার ভরণ পোষণের দ্বায়িত্ব নেয়ার মত সমাজে নেই কি কোন দ্বায়িত্বশীল ব্যাক্তি? এমন প্রশ্ন রাখছে স্থানীয়রা।
করগাও উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আলী জানান,এ শিশুটির নেই কোন পিতৃপরিচয়।তার মা অন্য জায়গায় বিয়ে হওয়ায় তার খোজ কেউ নেয় নাহ।শিশুটির ৩ বেলা খাবার ও থাকার জায়গা নেই বলেও জানান তিনি।এতে করে সমাজে শিশু শিক্ষার আরো সহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।তাই সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রিতিনিধিদের শিশুটির প্রতি দৃষ্টি দেয়ার আহবান জানান তিনি।
করগাও বাজারের তামান্না লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী সাত্তার জানান,শিশুটিকে তিনি সব সময় বাজারে একা একা ঘুরতে দেখেন।অনেক সময় ৫-১০ টাকা দেন তিনি।এতে এই টাকা দিয়ে তার খুদা মিটারন সম্ভব হয় না।তাই শিশুটিকে সমাজের গণমান্য ব্যাক্তি,জনপ্রিতিনিধিগণ যদি দেখভালের দ্বায়িত্ব নিতো তাহলে সমাজে শিশুটি শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে নিজ পরিচয়ে বেড়ে উঠতে পারতো বলে জানান তিনি।
কটিয়াদি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলামের সাথে এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,সংশ্লিষ্ট বিট অফিসার ও এলাকার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বা গণ্যমান্য ব্যাক্তি বর্গের সাথে কথা বলে শিশুটির দেখভালের দ্বায়িত্বের ব্যাবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।