টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে মিঠামইনে সড়ক ধসের আশঙ্কা, ঝুঁকি নিয়ে চলছে হাজারো মানুষ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জে টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া-কেওয়ারজোড় সংযোগ সড়কের একটি অংশে ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে ১৮ থেকে ২০ ফুটজুড়ে ফাঁপা অংশ তৈরি হওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে সড়কটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার খবর পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোধর গোস্তামী আখড়া-সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে সড়কের নিচের মাটি ধসে ভেতরে বড় ফাঁপা অংশের সৃষ্টি হয়েছে। বাইরে থেকে সড়কটি স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরের মাটি সরে যাওয়ায় এটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ঘাগড়া ও কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, অটোরিকশা এবং পণ্যবাহী যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পার হওয়ার সময় চালক ও যাত্রীরা আতঙ্কে থাকেন। তাদের আশঙ্কা, ভারী যানবাহনের চাপ বা সামান্য ধাক্কাতেই সড়কের অবশিষ্ট অংশ ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে গোধর গোস্তামী আখড়ার পাশের একটি ফিশারির পানি নিষ্কাশনের জন্য সড়কের নিচ দিয়ে পাইপ বসানো হয়। দীর্ঘদিন ওই পাইপ দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ধীরে ধীরে সড়কের নিচের মাটি ধুয়ে যায়। এর ফলে ভেতরে বড় ফাঁপা অংশ তৈরি হয়, যা টানা বৃষ্টিতে আরও বিস্তৃত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের ওপরের অংশে দৃশ্যমান কোনো বড় ক্ষতি না থাকলেও নিচে উল্লেখযোগ্য অংশ ফাঁপা হয়ে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে কয়েক দিনের মধ্যেই সড়কের আরও বড় অংশ ধসে পড়তে পারে। এতে দুই ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।
স্থানীয়রা সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
ঘাগড়া ইউনিয়নের প্রশাসক মো. মাজাহারুল ইসলাম বলেন, বুধবার (৮ জুলাই) সকালে খবর পাওয়ার পর বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মিঠামইন উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বৃষ্টি না হলে বৃহস্পতিবার থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশের সংস্কার কাজ শুরু হবে।