ডিবির হারুনের ‘ক্যাশিয়ার’ মোকাররম সর্দারের দাপট
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান মোকাররম সর্দার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন চাপে থাকলেও বর্তমানে তিনি আবারও এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলে জানা গেছে।
গণঅভ্যুথানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামীলীগ আমলে ২০২৪ সালের ২১ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোকাররম সর্দার নিকলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্থানীয়দের দাবি, সে সময় ডিবি হারুনের প্রভাব ও জেলা পুলিশের সহায়তায় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছিল। বিষয়টি তখন এলাকায় ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবেই আলোচিত ছিল।এছাড়াও তৎকালীন আওয়ামীলীগের এমপি বর্তমানে কারান্তরীণ আফজালের ঘনিষ্ঠজন হিসেবেও পরিচিত ছিলো মোকাররম সর্দার।এমপি আফজালের প্রভাবেও নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন মোকাররম সর্দার।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মোকাররম সর্দার বেকায়দায় পড়েন এবং একপর্যায়ে গ্রেপ্তারও হন।তবে সেদিনই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কারামুক্ত হন। পরে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে নিজেকে বিএনপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র একজন এমপির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে সামাজিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোকাররম সর্দার আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে জেলার সবচেয়ে বড় গরুর হাটগুলোর একটি নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের গুপি রায়ের হাটের ইজারা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে মোকাররম সর্দারকে নিয়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দে হাটটির ইজারামূল্য ছিল ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টাকা। অথচ চলতি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে একই হাটের ইজারা পেয়েছেন মোকাররম সর্দার, মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ইজারামূল্য কমেছে আড়াই কোটিরও বেশি টাকা।
এ নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হলেও কীভাবে এত কম মূল্যে হাটটির ইজারা দেওয়া হলো।
২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত গুপি রায়ের হাট বর্তমানে জেলার অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট হিসেবে পরিচিত। প্রতি বুধবার বসা এই হাটে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা আসেন। ফলে প্রতিবছরই হাটটির আর্থিক গুরুত্ব বাড়ছিল। সে হিসেবে এবার ইজারামূল্য আরও বাড়বে বলেই ধারণা ছিল সবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণত এক বছরের তুলনায় পরের বছর ইজারামূল্য বাড়ে। কিন্তু এক্ষেত্রে হয়েছে উল্টো। প্রকৃত সম্ভাব্য আয় গোপন করে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় কম মূল্যে হাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তিনবার দরপত্র আহ্বানের বিধান থাকলেও প্রথম বিজ্ঞপ্তিতেই ইজারাদার চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
তবে এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও রেহানা মজুমদার মুক্তি আগের বছরের ইজারা মূল্য দেখে উনাকে ফোন দিতে বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি।তাই উনার স্পষ্ট বক্তব্য নেয়া যায় নি।
এ বিষয়ে হাটের ইজারাদার মোকাররম সর্দারকে একাধিক বার মুঠোফোনে কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।তাই উনার বক্তব্য ও পাওয়া যায় নি।