পাকুন্দিয়ায় শিমুলিয়া ফিশারির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জনদুর্ভোগ
এম এ হান্নান, পাকুন্দিয়া কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
টানা বর্ষণে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নে শিমুলিয়া গ্রাম এলাকায় দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অধিকাংশ বাসিন্দা হতদরিদ্র ও দিনমজুর হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যেতে ইট, কংক্রিট, কাঠের টুকরো ও বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে, যাতে পানিতে পা না পড়ে। পানি বেড়ে গেলে রান্নাবান্নাও বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি টয়লেটেও পানি ঢুকে পড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি এলাকায় সাপের উপদ্রবও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, গত তিন বছর ধরে সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। দুই-তিন দিন পর পানি শুকিয়ে গেলেও এবার টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টি ও দুটি সড়ক পানি নিষ্কাশনের কোনো সুযোগ নেই।
গতকাল সাংবাদিক সাঈদুল ইসলাম বাড়ির সামনে এলাকা ও মেজর মতিউর রহমান বাড়ি এলাকার বসবাসরত প্রতিটি পরিবারের রান্নাঘর পানিতে তলিয়ে যায়। টানা বৃষ্টিতে অনেকের খাটের ওপর পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের। বৃষ্টির কারণে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, গ্রামের চারপাশে বিভিন্ন ফিশারির করা হলেও পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে বছরের প্রায় চার মাসই তারা এ ধরনের জলাবদ্ধতার শিকার হন। দীর্ঘদিন পানিতে চলাচল করার কারণে অনেকেই পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এমনকি প্রতিবেশীদের সঙ্গে জানালার মাধ্যমেই যোগাযোগ করতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তারা স্বাভাবিক জীবনযাপনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।
এ বিষয়ে পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতিউর রহমান সুরুজ বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।