ভাঙ্গুড়ায় অব্যবহৃত দেড় কোটি টাকার গ্রামীণ মার্কেট, বঞ্চিত স্থানীয়রা
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি:
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের ময়দানদিঘী বাজারে প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি আধুনিক গ্রামীণ মার্কেট ভবন নির্মাণের প্রায় ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। দোকান বরাদ্দের দীর্ঘসূত্রতার কারণে উদ্বোধনের পরও ভবনটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আধুনিক বাজার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রতি বছর সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারের গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই ময়দানদিঘী বাজারে দ্বিতল এই মার্কেট ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করে। ২০২০ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রায় দেড় বছর পর ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পরও দোকান বরাদ্দ না হওয়ায় ভবনটি আজও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
অত্যাধুনিক এই মার্কেট ভবনে মোট ১৪টি দোকান রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নিচতলায় কাঁচাবাজার, মাছ ও মাংস বিক্রির দোকান এবং দ্বিতীয় তলায় হার্ডওয়্যার, গার্মেন্টস, কসমেটিকসসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার কথা ছিল। এছাড়া ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সুবিধার্থে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, আধুনিক টয়লেট এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধাও রাখা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি অব্যবহৃত থাকায় এসব সুবিধার কোনো ব্যবহার হচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও তা ব্যবহার উপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে কোটি টাকার স্থাপনাটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ভবনের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
ময়দানদিঘী বাজারের ব্যবসায়ী আবুল হাশেম বলেন, “মার্কেটটি নির্মাণের পর আমরা আশা করেছিলাম দ্রুত দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে ব্যবসায়ীরা আধুনিক পরিবেশে ব্যবসা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা মানিক খান বলেন, “দেড় কোটি টাকার সরকারি স্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত দোকান বরাদ্দ দিয়ে মার্কেটটি চালু করা হলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং সরকারেরও নিয়মিত রাজস্ব আদায় হবে।”
খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন মিঠু বলেন, “মার্কেটটি চালুর বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে দোকান বরাদ্দের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামান বলেন, “মার্কেটটি দ্রুত চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দোকান বরাদ্দের বিষয়টি বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করে ভবনটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত দোকান বরাদ্দের মাধ্যমে গ্রামীণ মার্কেটটি চালু করা হবে। এতে যেমন স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, তেমনি সরকারি অর্থে নির্মিত এই অবকাঠামোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।