খুলনায় বস্তাবন্দি কিশোরী হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন
মো: আল-মাহফুজ শাওন:
খুলনায় বহুল আলোচিত বস্তাবন্দি কিশোরী হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে খুলনা সদর থানা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত কিশোরীর মা ও বাবা গ্রেফতার হয়েছেন। উভয় আসামিই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে খুলনা সদর থানাধীন প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়ক থেকে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় এক অজ্ঞাতনামা কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা সদর থানা পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় খুলনা সদর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তে নামে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহত কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতের নাম **আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬)**।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পারিবারিক কলহের জেরে ওই কিশোরীকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মা **আরিফা ইয়াসমিন সিমা**কে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
এদিকে, মামলার প্রধান আসামি ও নিহত কিশোরীর পিতা **মো. আলীম হোসেন আকাশ (৪০)** ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেফতারে খুলনা সদর থানা পুলিশ অভিযান অব্যাহত রাখে।
অবশেষে ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে খুলনা সদর থানা পুলিশ ও র্যাব-৬-এর যৌথ অভিযানে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানা এলাকা থেকে আলীম হোসেন আকাশকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনিও হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রাখা হয়েছিল। তদন্তের ধারাবাহিকতায় পারিবারিক কলহের বিষয়টি সামনে আসে এবং একে একে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়।
এর মাধ্যমে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে বহুল আলোচিত **নির্জনা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং মামলার উভয় আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে খুলনা সদর থানা পুলিশ**। আদালতে বাবা-মায়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
মামলাটির পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।