কষ্টে আছে অসহায় মা শিশুর জীবন; পাশে দাঁড়ানোর আকুল আবেদন
এসকে এম মহসিন রেজা, উপজেলা প্রতিনিধি (খুলনা):
কারও কাছে প্রাসাদের এক কোণেও শান্তির চরম অভাব থাকে, আর কারও কাছে মাথার ওপর সামান্য একটু প্লাস্টিকের ছাউনিই যেন জীবনের সবটুকু পাওয়া। জীবনের এই চরম বৈষম্য বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে দেয়। খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশীর চরামুখা খেয়াঘাটের পাশে এমনই এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন এক অসহায় মা ও তার নিষ্পাপ সন্তান। একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে রোদ-বৃষ্টির সাথে লড়াই করে প্রতিটা দিন কাটছে তাদের।
সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চরামুখা খেয়াঘাটের ঠিক পাশেই অবস্থিত এই ঘরটি কাঠ, বাঁশ, ভাঙা পলিথিন এবং পুরনো কাপড়ের টুকরো জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে খাড়া করে রাখা হয়েছে। মাথার ওপরের চালটি লাল-নীল রঙের ভাঙা পলিথিন ও বাঁশের টুকরো দিয়ে ঢাকা।
চারপাশ নানা রঙের পুরনো শাড়ি ও ছেঁড়া কাপড় দিয়ে বেড়া দেওয়া, যা ঝড়-বৃষ্টি কিংবা রোদের তীব্রতা থেকে রক্ষা করার জন্য একেবারেই যথেষ্ট নয়।
চলমান মৌসুমের বাইরের কর্দমাক্ত অবস্থা ও বৃষ্টির পানি অনবরত ভেতরে ঢোকার কারণে কুঁড়েঘরের ভেতরের পুরো মেঝে আজ গভীর কাদা ও নোংরা পানিতে সয়লাব হয়ে আছে।
যে বয়সে একটি ছোট্ট শিশুর হাতে সুন্দর খেলনা আর মুখে এক চিলতে মিষ্টি হাসি থাকার কথা, সেই বয়সে আজ মাথা গোঁজার নিরাপদ ঠাঁই না থাকার কষ্টে এবং ক্ষুধার তীব্র যন্ত্রণায় মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে সে অনবরত কাঁদছে।
অসহায় মায়ের চোখে আজ কেবলই হারানো স্বপ্ন, আর মেয়ের অবুঝ দৃষ্টিতে শুধুই ঘোর অনিশ্চয়তা। মা আজ বড্ড নিরুপায়, সন্তানের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দেওয়ার মতো ন্যূনতম সামর্থ্যটুকুও আজ তার নেই। নিজের সন্তানের এই বুকফাটা কান্না ও ক্ষুধার্ত মুখ দেখার চেয়ে বড় শাস্তি একজন মায়ের জন্য আর কী হতে পারে!
সেখানে উপস্থিত এক যুবক অত্যন্ত আবেগঘন ও জোরালোভাবে সবার কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, মানবতার খাতিরে যেন সবাই যার যার জায়গা থেকে একটু এগিয়ে আসেন। আপনার দেওয়া সামান্য ৫ টাকা, ১০ টাকা কিংবা ২০ টাকার একটু অবদানও এই অসহায় মা ও তার সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে পারে, দিতে পারে একটু সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা।
আর্থিক সাহায্য করা সম্ভব না হলেও ভিডিওটি শেয়ার করে অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে এই অসহায় পরিবারটির অন্তত একটি থাকার ভালো ব্যবস্থা হয়ে যায়।
উক্ত অসহায় পরিবারটিকে সরাসরি সাহায্য পাঠাতে বা বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।