ঢাকার সাভার-আশুলিয়ায় প্রবল বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকা, চরম ভোগান্তি
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি :
সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। সড়ক, অলিগলি, বাজার ও আবাসিক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।
সাভারের ব্যাংক টাউন, গেন্ডা, আমিনবাজার, হেমায়েতপুর ও রাজাসন এলাকায় জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল দখল, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। এবার টানা ভারী বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ক্ষতি হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা এলাকার বাসিন্দা মো. রনি হোসেন বলেন , প্রতি বছরই বর্ষা এলে একই দুর্ভোগে পড়তে হয়। এবার পানি ঘরের ভেতরে ঢুকে গেছে। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার।
সাভারের ব্যাংক টাউন এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল রানা বলেন, অফিসে যেতে পারিনি। রাস্তায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ড্রেনগুলো পরিষ্কার থাকলে হয়তো এত পানি জমত না।
আমিনবাজার এলাকার দোকানদার আব্দুস সালাম বলেন, দোকানে পানি ঢুকে অনেক মালামাল নষ্ট হয়েছে। বেচাকেনা বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।
একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক শারমিন আক্তার বলেন, কাজে যেতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে ছিলাম। অনেক শ্রমিক সময়মতো কারখানায় পৌঁছাতে পারেননি।
বাস চালক মো. হানিফ বলেন, রাস্তায় পানি বেশি থাকায় যাত্রী কম। আবার অনেক রাস্তায় বাস চালানোও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। আয় অনেক কমে গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠকরা জানান, প্রতি বছর একই ধরনের জলাবদ্ধতা দেখা দিলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না। খাল ও ড্রেন পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান তারা।
এদিকে শিক্ষার্থীরাও দুর্ভোগে পড়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। অভিভাবকরা শিশুদের জলাবদ্ধ রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, পানি দ্রুত অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে প্রতি বর্ষায় একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
নাগরিকদের প্রত্যাশা, শুধু সাময়িক ব্যবস্থা নয়, খাল-নালা পুনরুদ্ধার, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সাভার ও আশুলিয়াকে স্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করা হবে।
জলবদ্ধতা নিরশনে প্রশাসন কি উদ্যোগ নিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে সাভার পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে ড্রেনেজ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়াও সাভার ও আশুলিয়ায় যে সমস্ত স্থানে বেশি জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয় তা চিহ্নিত করে সাভার পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন এলাকায় জলবদ্ধতা দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে।
তবে প্রশাসনের কোন আশ্বাসেই এলাকাবাসী আর আস্থা রাখতে পারছে না। সাভার ও আশুলিয়ার সাধারণ মানুষ এই স্থায়ী দুর্ভোগ থেকে চিরদিনের জন্য স্থায়ী মুক্তি চায়।