ভাঙ্গুড়ায় মাদক নির্মূলে কঠোর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি:
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী এবং মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছেন।
সম্প্রতি তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত একাধিক মোবাইল কোর্ট অভিযানে মাদক সেবনের দায়ে বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকের বিস্তার রোধে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯ অক্টোবর ২০২৫ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান এ পর্যন্ত মোট **৭২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত** পরিচালনা করেছেন। এসব অভিযানে মাদক, ভেজাল দুধ, অবৈধভাবে পুকুর খনন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অপরাধে **৯৭টি মামলা** দায়ের করা হয়েছে এবং সর্বমোট **১১ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ টাকা** অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে।
শুধু মাদকবিরোধী কার্যক্রমেই এ পর্যন্ত **৩৩টি অভিযান** পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে **৩৩টি মামলা** দায়েরের পাশাপাশি **৪৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড** প্রদান করা হয়েছে। প্রশাসনের ধারাবাহিক এ অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকসেবন ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রশাসনের নিয়মিত ও কঠোর অভিযানের কারণে মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় মাদকের প্রকাশ্য বেচাকেনা ও সেবন আগের তুলনায় কমে এসেছে। তারা ভাঙ্গুড়াকে মাদকমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী, কার্যকর ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, **"মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান জিরো টলারেন্স। ভাঙ্গুড়াকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবীকে আইনের বাইরে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না।"**
তিনি আরও বলেন, মাদকের পাশাপাশি জনস্বার্থবিরোধী যেকোনো অপরাধ দমনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে। একটি নিরাপদ, সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।