কিশোরগঞ্জের হাওরে সহকর্মী কে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন পর্যটক কাওসার
বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের হাওরে সহকর্মীদের সঙ্গে ঘুরতে এসে মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হলেন এক তরুণ। নিখোঁজ থাকার প্রায় ২৪ ঘন্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করেছে।
বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে জেলার ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বর্ষিকুড়া শেরপুর হাওরের বগাডুবি সেতুর নিচ থেকে কাওসার ইসলাম (২৬) এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হন। নিহত কাওসার ইসলাম পটুয়াখালীর বাওফুল উপজেলার বড়ি পাশা গ্ৰামের আব্দুর রব শিকদারের পুত্র। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উত্তরা শোরুমে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার ২১ শে জুলাই সকালে কাওসার সহ ৫৬ জনের একটি দল ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ হাওরে ঘুরতে আসে । গাড়িতে করে তারা ইটনার চৌগাঙ্গা এলাকায় পৌঁছে নৌকায় বগাডুবি সেতু এলাকায় যান। দুপুরে সেতুর নিকটে ডুবে থাকা সড়কের পাশে কয়েকজন গোসল করতে নামেন । এ সময় তাদের এক সহকর্মী সাগর ইসলাম প্রবল স্রোতে তলিয়ে যেতে শুরু করলে তাকে বাঁচাতে কাওসার সহ কয়েকজন ঝাঁপিয়ে পড়েন। উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই কাওসার নিজেই স্রোতের কবলে পড়ে পানিতে তলিয়ে যান । পরে আশেপাশের লোকজন ও সহযাত্রীরা খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান পাননি ।
পরিবারের লোকজন জানান, কাওসার সাঁতার জানতেন না। কাওসারের সহকর্মী মিজানুর রহমান জানান, সাগর ইসলাম কে জীবীত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হলেও কাওসার কে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি । খবর পেয়ে মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে সন্ধ্যা নেমে আসাই অভিযান স্থগিত করা হয়। বুধবার সকাল থেকে পুনরায় অভিযান চালিয়ে দুপুর বারোটার দিকে বগাডুবির সেতুর নিচ থেকে কাওসারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাদলা পুলিশ ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক (এস,আই) নঈমূল ইসলাম জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন । মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।