দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপির আসন শূন্য হতে পারে: ইসি
মো: আল-মাহফুজ শাওন:
দলীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয়ে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কোনো রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যকে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কার করা হলে তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না এবং ওই আসন শূন্য ঘোষণা করা হবে কি না—এমন আইনি প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মতামত দেন।
বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকা পোস্টকে দেওয়া এক বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক ও আইনগত ভিত্তি দলীয় কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে কোনো দল আনুষ্ঠানিকভাবে তার মনোনীত সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করে এবং মনোনয়ন প্রত্যাহার বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট আসন শূন্য হওয়ার বিষয়টি আইনগতভাবে বিবেচনায় আসতে পারে।
তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নথিপত্র বা চিঠি পৌঁছেনি বলে জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, আসন শূন্য ঘোষণা এবং উপনির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক চিঠি বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর সংবিধান, আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা করে কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আরও বলেন, অনুমাননির্ভর তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো সঠিক নয়। লিখিত নথিপত্র ও প্রযোজ্য আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা পর্যালোচনা করেই কমিশন তার দাপ্তরিক অবস্থান স্পষ্ট করবে।
নথিপত্র পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে আইন অনুযায়ী আসন শূন্য ঘোষণা এবং পরবর্তী উপনির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও জানান নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
জামায়াত থেকে বহিষ্কার সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এদিকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না—এ নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনগত মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নথিপত্র নির্বাচন কমিশনে পৌঁছানোর পর সংবিধান ও প্রচলিত আইন পর্যালোচনা করে কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।