মানব পাচার মামলায় কারাগারে গেলেন ভৈরবের ’ভূয়া সাংবাদিক’ বাইট্টা মামুন
সোহানুর রহমান সোহান, নিজেস্ব প্রতিবেদক:
নিজেকে দেশজুড়ে আলোচিত রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের মত শো-আপ করার জন্য মহান পেশা সাংবাদিকতার অন্তরালে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বিহীন অনিবন্ধিত কতিপয় বর্ণচোরা নাগর টিভি নামের একটি অনলাইন টিভি তৈরি করে রীতিমতো টক-শো খুলে বসেন। সেই সাথে প্রেস স্টিকার লাগিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ও ভৈরব সহ বিভিন্ন জায়গায়
এক সময়কার স্থানীয় একটি মাজারে চা বিতরণকারী নামধারী তথাকথিত সাংবাদিকতার অন্তরালে বন্দর নগরী ভৈরবসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজনের কাছ থেকে আনুমানিক ২/৪ কোটি টাকা নিয়ে সহজ সরল মানুষকে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর নাম করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছে এই কথিত নামধারী পিচ্চি মামুনচত্রুটি। সে নিজেকে কখনো সাংবাদিক কখনো কন্টেন্ট ক্রিয়েটর,কখনো গণ অধিকার পরিষদের বড় নেতা পরিচয় দিয়ে এই অভিনব কৌশলে ভৈরব বাসস্ট্যান্ডস্থ দূর্জয় মোড়ের দক্ষিণ প্বার্শে আমেনা ভবনে একটি অনিবন্ধিত অনলাইন টিভির অফিস ভাড়া নিয়ে মাদক, নারী কেলেঙ্কারী সহ প্রতারণা করে ইতালিতে প্রবাসে পাঠানোর নাম করে মানব পাচার করে আসছে এই পিচ্চি মামুন। অবশেষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট
মোশাররফ হোসেনের করা একটি মানব পাচার মামলায় গেলেন কারাগারে!
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামসুল মামুন ওরফে পিচ্চি নাগর মামুন। র্র্যব- পুলিশের চেকপোস্টসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক জায়গায় পরিচয়ে দিতেন নাগর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাপ্তাহিক চলমান বার্তা পত্রিকাসহ বিভিন্ন ভূইফোর অনিবন্ধিত অনলাইন পত্রিকার
স্টাফ রিপোর্টার। সাংবাদিক পরিচয়ে একইভাবে শুরু করতেন মানব পাচারসহ নানা অপরাধযজ্ঞ । এদিকে কথিত সেই সাংবাদিক শামসুল হক মামুন ওরফে পিচ্চি নাগর মামুন (২৭ ) কে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট
মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে ৩১(ক)৩১(খ)৩১(গ)৩৩/৩৬ বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০২৩ অপরাধে ভৈরব থানায় একটি সি.আর মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১৯৮/২৬ পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দায়িত্বরত বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট সরাসরি মামলাটি (জি.আর.) আমলে নিয়ে এফআইআর (FIR) করার আদেশ দেন ভৈরব থানাকে । এরই প্রেক্ষিতে গতরাতে তাকে ভৈরব সিলেট বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ভৈরব থানা পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠায় বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসিফুল হক ভূইঁয়া ।
আটককৃত সেই কথিত নামধারী শামসুল হক মামুন ওরফে পিচ্চি নাগর মামুন ভৈরব উপজেলার কালিকা প্রসাদ ইউনিয়নের কালিকাপ্রসাদ ১ নং ওয়ার্ডের তাফালি বাড়ি এলাকার মৃত লাল মিয়া ফকির ও আনোয়ারা বেগমের পুত্র। ভুক্তভোগী আইনজীবী এডভোকেট মোশাররফ হোসেন বলেন, আজ ৩/৪ টা বছর ধরে এই নামধারী সাংবাদিকের অপকৌশলের কাছে আমি জিম্মি হয়ে আছি। মহামান্য আদালতের নির্দেশে তাকে গ্রেফতারের খবরে মনে কিছুটা হলে প্রশান্তি পাচ্ছি। এখন আমি আইনের প্রক্রিয়াগতভাবে মামলাটি পরিচালনা করে যাব। যেন আমার মতো আর কেউ প্রতারিত না হয়।
এ বিষয়ে, ভৈরব প্রেসক্লাবের নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহেলুর রহমান দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন -কে বলেন, আমি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখেছি নামধারী তথা -কথিত এই সাংবাদিক -কে তেমন করে চিনি না। বা তার নাম পরিচয় কি - তাও জানি না। তবে মানব পাচারের মতো এই জগণ্যতম অপরাধে যদি-ই সে জড়িত থাকে তা হলে আইনগত প্রক্রিয়ায় যে বিচারব্যবস্থা রয়েছে তার যথাযথ বিচার হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। কারণ সে তথাকথিত নামধারী সাংবাদিক হোক আর যে-ই হোক কেউ তো আর
" আইনের ঊর্ধ্বে" নয়। সেই সাথে আমি এই কথাও বলবো যে সাংবাদিকতার মত একটি মহান পেশায় যারা এসব
দুশ্চরিত্র কতিপয় লোকজনের এনে সাংবাদিক তৈরি করে সাংবাদিকতা পেশাটাকে কলুষিত করে সে সব মূলহোতাদের কেও আইনের আওতায় আনা উচিত।
এ দিকে ভৈরব উপজেলা গণ অধিকার পরিষদের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল বলেন, ভৈরবের অন্যতম তথাকথিত নামধারী সাংবাদিক মানবপাচারকারী শামসুল হক মামুন ওরফে বাইট্টা মামুনের গ্রেফতারের খবর টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার সাথে সাথে জনমনে সস্তি ফিরেছে আমি চাই তার যথাযথ শাস্তি হোক। এসব তথাকথিত সাংবাদিক আমাদের সমাজের জন্য ভাইরাস।