গোপালগঞ্জে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীকে পেপারওয়েট ছোড়ার ঘটনায় বিচারক বদলি
মো: আল-মাহফুজ শাওন:
গোপালগঞ্জে এজলাস চলাকালে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথায় কাঁচের পেপারওয়েট ছুড়ে আঘাত করার অভিযোগে আলোচিত বিচারক মো. সুজন মিয়াকে বদলি করা হয়েছে। তিনি গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা এক আদেশে তাকে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণ করে অবিলম্বে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্য মো. সুজন মিয়া (পরিচিতি নম্বর: ২০২৪২১১৬০০৬২), জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আদালত-২, গোপালগঞ্জকে বর্তমান পদের দায়িত্বভার মনোনীত কর্মকর্তার নিকট অর্পণ করে অবিলম্বে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে, এজলাস চলাকালে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী সাবিহা সুলতানাকে কাঁচের পেপারওয়েট ছুড়ে মাথায় আঘাত করার অভিযোগ ওঠে বিচারক মো. সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের এজলাসের পেছনের অংশে শব্দ ও কথাবার্তা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারক তার টেবিল থেকে কাঁচের পেপারওয়েট ছুড়ে মারেন। এতে পেপারওয়েটটি সরাসরি আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় আঘাত করে।
আঘাত পাওয়ার পর আহত আইনজীবীকে তাৎক্ষণিকভাবে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিচারকের এমন আচরণের প্রতিবাদে গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা বিচারিক কার্যক্রম বর্জন করে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা অভিযুক্ত বিচারকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপসারণের দাবি জানান।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরাও মানববন্ধন করেন। আইনজীবীরা বিচার বিভাগের মর্যাদা ও আদালতের পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে, বিচারক মো. সুজন মিয়াকে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিচারিক আমলি ক্ষমতা (কগনিজেন্স পাওয়ার) থেকেও প্রত্যাহার করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তীতে ২৩ জুলাই তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হলো।
ঘটনাটি নিয়ে আইনজীবী অঙ্গন ও বিচার সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।