বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা: রহস্য উদঘাটন না হলে এমপি পদ ছাড়বেন ফজলুর রহমান
বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে না পারলে সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এমপি ফজলুর রহমান। একই অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-অষ্টগ্রাম-মিঠামইন) আসনের এই সাংসদ জামায়াতে ইসলামীকে স্বাধীনতাবিরোধী দল উল্লেখ করে দলটির সমালোচনাও করেন।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন বাজারের বালুর মাঠে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের স্মরণে শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত তিনি তদন্তে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেননি। মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার এবং গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা তাকে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের আশ্বাস দিয়েছেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছেন। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার আসামিদের আবারও পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমি অপেক্ষা করছি। তারা যদি হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে না পারে, তাহলে আমি যেখানে যাওয়ার সেখানে যাব। বাংলাদেশে এমন কোনো উঁচু জায়গা নেই, যেখানে আমার নাগাল নেই। জাহাঙ্গীর হত্যার প্রকৃত রহস্য আমি বের করবই। যদি এই হত্যাকান্ডের সঠিক তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে আমি এমপি পদ ছেড়ে দেওয়ারও দাবি করেন এই সাংসদ।
বক্তব্যে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী মিঠামইন থানায় ২৪ হাজার ভোট পেয়েছে। মিঠামইনে জামায়াত কোথা থেকে এলো? কে জামায়াতকে ভোট দিল? কারা তাদের সঙ্গে মিলল? যে লোকটা নৌকা ছেড়ে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে পারে, তার তো জন্মেরই ঠিক নেই।
গত নির্বাচনের ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মিঠামইন ইউনিয়নে তিনি মাত্র ৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। পাশের গোপদিঘী ইউনিয়নের একটি কেন্দ্র ছাড়া প্রায় সব কেন্দ্রেই তিনি পিছিয়ে ছিলেন। কামালপুর কেন্দ্রেও পরাজয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,আপনারা বুকে হাত দিয়ে বলেন, এই কেন্দ্র কার, এখানে কারা ভোট দেয়। আমাকে ভোট না দিলেও সমস্যা নেই, কিন্তু তাই বলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন কেন। স্বাধীনতাবিরোধীরা গভীরভাবে ষড়যন্ত্র করে কাজ করে। বিষয়টি সবাইকে মাথায় রাখতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শোকসভায় আলোচনায় অংশ নেয়, মোঃ কামাল পাশা স্বেচ্চাসেবক দল), হাফিজুল্লাহ হিরা (সহ-সভাপতি কেন্দ্রিয় ছাত্র দল, মোহাম্মদ বাহার মিয়া (সাবেক ভিপি), এডঃ ফরিদ আহম্মেদ শোকাহত পরিবারের সদস্য), হাজী ইসরাইল মিয়া (সাধারন সম্পাদক সদর বিএনপি), এডঃ শাহ কামাল (পিপি জজ কোট), এডঃ জসিম উদ্দিন রুবেল (সাংগঠনিক সাম্পাদক), জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রুহুল হোসাইন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইটনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম আশফাক, ইটনা উপজেলা বিএনপির নেতা ঠাকুর এবং কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মাজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন সদর এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ১১টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকান্ডের পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলাল (২৪)কে আটক করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হেলাল, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম ওরফে শাকিল (২৭)কে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে আদালত গ্রেপ্তার তিন আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।