রাতে লাউডস্পিকার-আতশবাজিতে শব্দদূষণ ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা: হাইকোর্টের রুল
মো: আল-মাহফুজ শাওন:
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন দিবস উদ্যাপনের সময় রাতে লাউডস্পিকার ও আতশবাজি ব্যবহার করে তীব্র শব্দদূষণ, জনউপদ্রব এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে জুয়া প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আট আইনজীবীর জনস্বার্থে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
রুলে স্বরাষ্ট্রসচিব, যুব ও ক্রীড়াসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিটে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠান, বিশেষ করে রাতের বেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠান ও খেলা ঘিরে উচ্চ শব্দে লাউডস্পিকার ব্যবহার, আতশবাজি ফোটানো এবং এর ফলে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ ও শব্দদূষণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়েও সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও অন্যান্য আয়োজনকে কেন্দ্র করে জুয়া ও বেটিংয়ের মতো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতার বিষয়টিও রিটে চ্যালেঞ্জ করা হয়।
রিটকারী আইনজীবীরা হলেন—মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, মো. মহিউদ্দিন, ইয়াসিন আলফাজ, সাইফুল্লাহ খালেদ, মোহাম্মদ ওয়াহিদুল আলম, মো. রায়হান সোবহান, মো. আবু দাউদ নিজাম ও শেখ শরিফ উদ্দিন ফিরোজ।
আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুর মোহাম্মদ আজমী ও ইউনুস আলী রবি।
হাইকোর্টের এই রুলের মাধ্যমে ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন দিবস উদ্যাপনের সময় শব্দদূষণ, জনউপদ্রব, সংঘর্ষ এবং জুয়া নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যকর পদক্ষেপের বিষয়টি নতুন করে আইনি পর্যালোচনার আওতায় এলো।