খুলনা রেলস্টেশনে মার্বেল টাইলসের ওপর ঘুমিয়ে থাকা শিশুর ছবি নাড়া দিল হৃদয়
মো: আল-মাহফুজ শাওন:
রাত গভীর। চারপাশে নীরবতা। খুলনা রেলস্টেশনের মেঝেতে যাত্রীদের আনাগোনা থাকলেও সবার দৃষ্টি এড়িয়ে এক কোণে মার্বেল টাইলসের ওপর ঘুমিয়ে আছে ৪-৫ বছরের একটি শিশু। মাথার নিচে নেই কোনো বালিশ, গায়ে নেই কোনো চাদর বা কাপড়। পরনে শুধু একটি হাফ প্যান্ট।
শিশুটির পাশে কিছুক্ষণ আগে একটি কালো কুকুরকেও শুয়ে থাকতে দেখা যায়। মশার উপদ্রবে যেখানে কিছুক্ষণ বসে থাকাও কঠিন, সেখানে শিশুটি যেন সবকিছু ভুলে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
ঘটনাটি খুলনা রেলস্টেশনে বিশেষ প্রয়োজনে অবস্থানরত এক প্রত্যক্ষদর্শীর নজরে আসে। শিশুটির এমন অসহায় অবস্থার দৃশ্য যে কারও হৃদয় নাড়া দেওয়ার মতো। জীবনের কঠিন বাস্তবতা যেন এই দৃশ্যের মধ্যেই ফুটে উঠেছে।
একদিকে কারও জীবন কাটে বিলাসবহুল প্রাসাদে, আর অন্যদিকে কোনো কোনো শিশুর রাত কাটে খোলা মেঝেতে, কখনো স্টেশনে, কখনো ফুটপাতে। কারও মাথার নিচে নরম বালিশ, শরীরে উষ্ণ কম্বল; আবার কারও জন্য ঠান্ডা মার্বেল টাইলসই হয়ে ওঠে রাতের বিছানা।
আল্লাহ তায়ালা মানুষের জীবনে কতই না পার্থক্য রেখেছেন—কাউকে দিয়েছেন রাজপ্রাসাদ, আর কাউকে রেখেছেন খোলা আকাশের নিচে, মাটি ও কাঁদা-পানির কঠিন বাস্তবতায়।
খুলনা রেলস্টেশনের মেঝেতে ঘুমিয়ে থাকা এই শিশুটির ছবি শুধু একটি ছবি নয়; এটি আমাদের সমাজের বৈষম্য, দারিদ্র্য ও অসহায় মানুষের জীবনের এক নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। শিশুটির মতো আরও কত শিশু যে প্রতিদিন এমনভাবেই রাত কাটায়, তার হিসাব হয়তো কারও কাছে নেই।
এই দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শিশুরা কোনো দয়া নয়, তাদের অধিকার নিয়ে বাঁচার সুযোগ প্রাপ্য। সমাজের বিত্তবান মানুষ, মানবিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এসব অসহায় শিশুর পাশে দাঁড়ায়, তাহলে হয়তো কোনো শিশুকে আর রেলস্টেশনের মার্বেল মেঝেকে বিছানা বানিয়ে ঘুমাতে হবে না।