খাল পুনঃখনন শেষে অব্যবহৃত প্রায় ২০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও
মো: আল-মাহফুজ শাওন :
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সততা এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে দায়িত্বশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০০৪ ব্যাচের এই কর্মকর্তা জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে সচল রাখতে গৃহীত একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের পর প্রকল্পের অব্যবহৃত **১৯ লাখ ৭১ হাজার ৯৯৪ টাকা** সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন।
জানা গেছে, প্রকল্পটির জন্য সরকার নির্ধারিত অর্থ বরাদ্দ দিয়েছিল। তবে কাজের মান অক্ষুণ্ন রেখে সুষ্ঠু পরিকল্পনা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উদ্বৃত্ত থাকে। পরে সেই অর্থ ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো খাতে ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেন ইউএনও তিথি মিত্র।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, খাল পুনঃখননের ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন আরও সহজ হবে। এতে কৃষকসহ স্থানীয় জনগণ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘটনাটি প্রশাসনে বিরল হলেও অত্যন্ত ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তিথি মিত্রের এই উদ্যোগ প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারি অর্থ ব্যবহারে এ ধরনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অন্য কর্মকর্তাদের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং জনসেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে। ইউএনও তিথি মিত্রের এই পদক্ষেপ সেই বার্তাই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।