মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ

জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া 'মানবিক ডাক্তার' শামীম গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক ০৫ August ২০২৬ · Wednesday · ০৮:২৩ অপরাহ্ণ
জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া 'মানবিক ডাক্তার' শামীম গ্রেপ্তার

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে ও পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার পক্ষে কাজ করা 'মানবিক ডাক্তার' খ্যাত চিকিৎসক ডা. শামীম (২৯)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তিনি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পৌর এলাকার কামারকোনা এলাকার মৃত আলম ভুঁইয়ার ছেলে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

এলাকাবাসী ও জুলাই আন্দোলনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে এবং পরবর্তীতে ডা. শামীম ভুঁইয়া ছাত্র-জনতার পক্ষে ছিলেন। আহতদের যখন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হতো না, তখন তিনি তাদের চিকিৎসা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও তিনি জুলাইয়ের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি অর্ধশত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। এ কারণে তিনি 'মানবিক ডাক্তার' হিসেবে মানুষের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছেন। সর্বশেষ কয়েক দিন আগে পৌর এলাকায় জুলাই শহীদদের স্মরণে একটি ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করেছেন।

অনুসন্ধানে তার ফেসবুক আইডি ও এক বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে জুলাই সমর্থক দাবির পক্ষে সত্যতা পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের ২ আগস্ট তিনি লিখেছিলেন, "প্রিয় দেশবাসী, ছাত্রদের পাশে দাঁড়ান। আশ্রয়, খাবার ও চিকিৎসা দিন। ওরা আপনাদের ভাইবোন-সন্তান।" একই বছরের ৫ আগস্ট তিনি লিখেছিলেন, "দেশ স্বাধীন"।

গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা জহিরুল ইসলাম ও আফজল হুসাইন বলেন, ডা. শামীম ভুঁইয়া শুধু জুলাইয়ের পক্ষের লোক নন, বরং তিনি একজন জুলাই যোদ্ধা। তাকে গ্রেপ্তার করা অশনিসংকেত। তিনি নানাভাবে আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং আমরা যখন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পাইনি, তখন তিনি আমাদের চিকিৎসা দিয়েছেন। আমরা তার মুক্তি চাই। স্বার্থগত কারণে মিথ্যা তথ্য দিয়ে যারা তাকে গ্রেপ্তার করিয়েছে, তাদের বিচার চাই।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া আব্দুল্লাহ আল রুমান বলেন, ডা. শামীম ভুঁইয়া জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পক্ষে ছিলেন। তিনি আহতদের চিকিৎসা দিয়েছেন। তিনি একজন মানবিক ডাক্তার। আমরা তার মুক্তি চাই।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন রশীদী বলেন, ডা. শামীম ভুঁইয়া একজন ভালো মানুষ। সমাজ ও দেশবিরোধী কোনো কিছুর সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তিনি জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তি। অবিলম্বে তার মুক্তি চাই।

পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. নাছিম বলেন, ডা. শামীম ভুঁইয়াকে সমাজ ও দেশবিরোধী কোনো কিছুর সঙ্গে যুক্ত হতে দেখিনি। তাকে জুলাইয়ের পক্ষের লোক হিসেবেই দেখেছি।

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মুশফিকুর রহমান উবাইদু ও জালালপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা আরিফুল ইসলাম সবুজ বলেন, চিকিৎসক শামীম কতিপয় সুবিধাবাদী লোকের প্রতিহিংসার শিকার। আইনবিরোধী কোনো কিছুর সঙ্গে জড়িত না থাকলে শুধু আদর্শগত কারণে গ্রেপ্তার সমর্থন করি না। তিনি সমাজে একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। জুলাই আন্দোলনে তার ভূমিকা অস্বীকার করার মতো না৷ আমরাও এ ঘটনায় বিব্রত।

পুলিশ হেফাজতে থাকা ডা. শামীম ভুঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, আইনবিরোধী কোনো কিছুর সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা কখনোই ছিল না। বিগত সময়ে পৌর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক পদ আমাকে না জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাজনীতির সঙ্গে আমার কখনো সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল না। আমি জুলাই আন্দোলনে বিবেকের তাড়নায় ছাত্র-জনতার পক্ষে ছিলাম। এখন কতিপয় ব্যক্তির স্বার্থগত চাওয়া পূরণ না হওয়ায় প্রতিহিংসার শিকার হলাম।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন,   ডা. শামীম পৌর আ'লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন