পাকুন্দিয়ায় বন্ধুকে থাপ্পর মারার প্রতিবাদ: ‘জুলাই যোদ্ধা’ পাপনকে ছুরিকাঘাত
আবু হানিফ,পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ:
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় বন্ধুকে থাপ্পর মারার প্রতিবাদ করায় পাপন (১৯) নামে এক ‘জুলাই যোদ্ধা’কে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে পৌর বাজারের পাকুন্দিয়া-মির্জাপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
আহত পাপন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টান লক্ষীয়া গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় পাপনের বন্ধু রাজনের সঙ্গে মোবাইল কেনাবেচা নিয়ে চর পাকুন্দিয়া গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে পারভেজ এবং মাসুম মিয়ার ছেলে ইমরানের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে পারভেজ রাজনকে থাপ্পর মারলে পাপন এর প্রতিবাদ করেন। এতে পাপনের সঙ্গেও তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
এর জেরে রাত ৮টার দিকে পারভেজ ও ইমরানের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক পাপনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এক পর্যায়ে পারভেজ তাকে ছুরিকাঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পাপনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে স্থানীয়রা পাপনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তীতে সেখান থেকেও তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে পৌর বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক শাহান শাহ বলেন,
“পারভেজ ও ইমরানসহ একটি দল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক, চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িত। তারা পাপনকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেছে। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে পারভেজ ও ইমরান নামে দুই যুবকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।