দেওয়ানগঞ্জে অবৈধভাবে ডিজেল বহন: ভ্রাম্যমাণ আদালতের ৭ দিনের কারাদণ্ড
সামরুল হক, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা-এ জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পরিবহনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ ডিজেল বহনের দায়ে এক ব্যক্তিকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুরে উপজেলার একটি পেট্রোল পাম্প এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় প্রশাসন।
এ সময় সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে এক ব্যক্তিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছে থাকা একটি কন্টেইনার থেকে আনুমানিক ১২০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন এবং অনুমোদিত সীমার বাইরে জ্বালানি বহনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে মজুদ করা এবং পরে তা বেশি দামে বিক্রির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার প্রবণতা রোধে সম্প্রতি নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে পেট্রোল পাম্প ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এ ধরনের অনিয়ম শনাক্ত করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং তাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ, পরিবহন ও কালোবাজারি প্রতিরোধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। কোনো ব্যক্তি বা চক্র যদি এই ধরনের অপরাধে জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও জানান, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে কেউ অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদ বা পরিবহনের সঙ্গে জড়িত না হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ ধরনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায়। তাই নিয়মিত অভিযান ও কঠোর শাস্তির মাধ্যমে এই চক্রকে দমন করা অত্যন্ত জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে, বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্য মূল্যে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন। একইসঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতে অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা