ভৈরবে জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন: হামলা, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির বিচার দাবি
সোহানুর রহমান সোহান নিজেস্ব প্রতিবেদক:-কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পৈতৃক জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলা, মারধর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রোববার ভৈরবের শামীম অ্যাড ফার্ম এন্ড মিডিয়া হাউজ, সৈয়দা আমেনা ভবন (২য় তলা), দুর্জয় মোড় এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এবং ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
লিখিত অভিযোগে জানানো হয়, উপজেলার রাজনগর (বড় বাড়ী) এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ জমিতে প্রবেশ করে হামলা চালায়।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে গালিগালাজ করে এবং পরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এলোপাতাড়ি আক্রমণ শুরু করে। এতে জজ মিয়া গুরুতর আহত হন। তাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয়। একই সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আমিনা বেগমের ওপরও হামলা চালানো হয় এবং তাকে শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়। তার হাতের আঙুল ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া ইব্রাহিম মিয়া, উজ্জ্বল মিয়াসহ আরও কয়েকজন আহত হন। হামলাকারীরা লোহার রড, লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধর করে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগে একই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুনরায় ভুক্তভোগীদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ প্রায় ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জজ মিয়া বলেন, “আমাদের জমি দখলের জন্য পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এখনো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ঘটনায় ভৈরব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং গ্রামীণ সমাজে আইন-শৃঙ্খলার প্রতি আস্থাকে দুর্বল করে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্বজনদের চোখে ছিল আতঙ্ক আর কণ্ঠে ছিল ন্যায়বিচারের আকুতি—রক্তে রাঙানো সেই জমি যেন আজও নীরবে বলে যাচ্ছে, “অধিকার রক্ষার লড়াই এখনো শেষ হয়নি।”