শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
জাতীয়

নিরঙ্কুশ বিজয় নিয়ে সংসদে যেতে প্রস্তুত বিএনপি

Admin ১১ March ২০২৬ · Wednesday · ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ
নিরঙ্কুশ বিজয় নিয়ে সংসদে যেতে প্রস্তুত বিএনপি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এখন রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘ দেড় দশকের লড়াই-সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে দলটি এখন সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্রে ফেরার অপেক্ষায়।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বসতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।


এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এদিন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদ নেতার আসনে বসবেন দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রথমবারের মতো তিনি শুধু সংসদ সদস্য হিসেবেই সংসদ অধিবেশনে বসবেন না, বসবেন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। বিগত দেড় দশকে দেশের প্রতিটি সেক্টরে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা মেরামত এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে এক নতুন সংসদীয় যাত্রা শুরু হচ্ছে।
নির্বাচনী পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিএনপির এবারের বিজয় বিগত সব নির্বাচনকে ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং বিপুল ভোট বিপ্লব প্রমাণ করে যে দেশের মানুষ নির্বাচনের জন্য উন্মুখ ছিল। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ১৪০টি আসন এবং ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে এককভাবে ১৯৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছিল দলটি।


মাঝখানে ২০০৮ সালের নবম নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছিল মাত্র ৩০টি আসন। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনগুলোর পর ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত এই ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়লাভ করে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। পরিসংখ্যানবিদরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটার এবং নারী ভোটারদের সিংহভাগ ভোট বিএনপির বাক্সে পড়েছে, যা এই বিশাল জয়ের মূল ভিত্তি।

এই ভূমিধস বিজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা দলটির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণ এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুসংগঠিত নেতৃত্বকে চিহ্নিত করেছেন। বেগম জিয়ার মৃত্যু ছিল বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের জন্য এক বিশাল ধাক্কা, কিন্তু সেই শোককেই তারা শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বেগম জিয়ার প্রতি যে অবিচার করা হয়েছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করেছে, তার প্রতিফলন ঘটেছে ব্যালট পেপারে। মানুষের মনে এই ক্ষোভ ছিল যে, তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে আওয়ামী লীগ আমলে সুচিকিৎসা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এই আবেগ ভোটারদের বুথমুখী করতে জাদুর মতো কাজ করেছে।
বেগম জিয়ার মৃত্যুর পর তারেক রহমান যখন দলের পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন থেকেই তিনি দলকে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোতে রূপান্তর করেন। দীর্ঘ নির্বাসন জীবনে থেকেও তিনি প্রতিটি উপজেলার নেতা-কর্মীর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থেকেছেন, যা দলের মধ্যে শৃঙ্খলা ও সংহতি ফিরিয়ে এনেছে। তারেক রহমানের এই সাংগঠনিক দক্ষতাই মূলত নির্বাচনের দিন মাঠপর্যায়ে বিএনপির জয় নিশ্চিত করেছে।

সংসদে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য গত ৬ ও ৭ মার্চ দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়, যা ছিল বিএনপির সংসদীয় ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই কর্মশালায় সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি, বিল প্রণয়ন, প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে শেখানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় সংসদের বাইরে থাকার ফলে অনেক নতুন সংসদ সদস্যের সংসদীয় রীতিনীতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকতে পারে, যা মেটাতেই এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কর্মশালায় চেয়ারম্যান তারেক রহমান সশরীরে উপস্থিত হয়ে বার্তা দিয়েছেন, সংসদ সদস্যদের প্রধান কাজ হবে নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং সংসদে জনগণের কণ্ঠস্বর হওয়া। কোনোভাবেই যাতে ক্ষমতার অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। এই প্রশিক্ষণ প্রমাণ করে যে বিএনপি এবার কেবল ক্ষমতায় বসার জন্য নয়, বরং দক্ষ ও কার্যকর একটি সংসদ উপহার দিতে বদ্ধপরিকর।

১২ মার্চ বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। এদিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সংসদে প্রথম পা রাখবেন তারেক রহমান। এটি তার রাজনৈতিক জীবনের প্রথম সংসদ যাত্রা এবং প্রথমবারেই তিনি দেশের নির্বাহী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই অভিযাত্রা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের সূচনা করবে।

নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবনে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তাদের প্রিয় নেতার প্রথম সংসদীয় ভাষণ শোনার জন্য। বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের ওপর জনগণের যে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণে এই সংসদীয় যাত্রাই হবে তার জন্য লিটমাস টেস্ট। তিনি কীভাবে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সংসদের ফ্লোরে আলোচনার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনেন, সেদিকেই এখন সবার নজর।

যদিও বর্তমান সরকারের সামনে এখন কঠিন বাস্তবতা। গত দেড় যুগে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের প্রতিটি সেক্টর—প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে যে ব্যাপক দলীয়করণ ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ব্যাংকিং খাতের লুটপাট এবং বিদেশে অর্থ পাচারের ফলে দেশের অর্থনীতি এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছে। এই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি দূর করা হবে নতুন সরকারের প্রধান কাজ। বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘রাষ্ট্র সংস্কারের’ যে রূপরেখা দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনা এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে জনগণের এই বিশাল ম্যান্ডেট রক্ষা করা কঠিন হবে। বিশেষ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আমূল সংস্কার করা সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা উচিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. সাইফুল আলম চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ‘বিএনপির এই জয় কেবল একটি ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, এটি একটি বিধ্বস্ত রাষ্ট্রব্যবস্থাকে পুনরায় জাগিয়ে তোলার দায়িত্ব। তারেক রহমান যেভাবে সুশৃঙ্খলভাবে দল পরিচালনা করে এই বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন, তা প্রশংসনীয়। তবে তার সামনে এখন হিমালয়সম চ্যালেঞ্জ। গত ১৫–১৬ বছরে রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ; বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে আমলাতন্ত্র; যেভাবে দলীয়করণের শিকার হয়েছে, তা মেরামত করা সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো দ্রুত পদক্ষেপগুলো সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়িয়েছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য তাকে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সব পক্ষকে নিয়ে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তারেক রহমানের জন্য ১২ মার্চের সংসদ যাত্রা হবে তার নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা, যেখানে তাকে শাসক হিসেবে নয়, একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।

নতুন সরকারের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি। বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের সিংহভাগ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এবং আমাদের প্রবাসীদের বড় একটি অংশ সেখানে কর্মরত। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে, যা সরাসরি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) কমে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই নাজুক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে বৈদেশিক নীতি নির্ধারণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে দেশের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে কেবল অভ্যন্তরীণ সম্পদের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, বরং কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে।

সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম চালু করেছে, যা সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে এত অল্প সময়ে ফ্যামিলি কার্ড চালুর সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং জনবান্ধব।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শনিবার ছুটির দিনেও অফিস করা জনমনে বিশেষ আলোচনা তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই নিরলস পরিশ্রম সরকারি আমলাতন্ত্রের অলসতা কাটাতে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে যদি এই ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়, তবে নিচের স্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যেও কাজের গতি বাড়বে। শনিবার অফিস করার এই সংস্কৃতি সরকারি কাজে গতিশীলতা আনার পাশাপাশি জনগণের ভোগান্তি হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিএনপির এই নিরঙ্কুশ বিজয় এবং ১২ মার্চ তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংসদের যাত্রা শুরু কেবল একটি ক্ষমতার পরিবর্তন নয়; এটি এখন দেশের সাধারণ মানুষের স্বপ্নের প্রতিফলন। দীর্ঘ দেড় দশকের বঞ্চনা শেষে মানুষ একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে।

অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক; সবারই প্রত্যাশা, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকার অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা কায়েম করবে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ বিধ্বস্ত খাতগুলো মেরামত করা পাহাড়সম কঠিন কাজ, তবুও ফ্যামিলি কার্ডের মতো জনমুখী উদ্যোগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কঠোর পরিশ্রম আশার আলো দেখাচ্ছে।

আগামী ১২ মার্চ যখন ত্রয়োদশ সংসদের ঘণ্টা বাজবে, তখন সেই ঘণ্টা যেন কেবল অধিবেশন শুরুর নয়, বরং একটি নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জয়ধ্বনি হয়; এটাই এখন দেশবাসীর প্রত্যাশা।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।